
বাংলাদেশে বহুল পরিচিত শজনে গাছকে অনেকে ‘মিরাকল ট্রি’ বা অলৌকিক গাছও বলে থাকেন। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই গাছের নতুন একটি বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা সামনে এসেছে—যা বিশ্বজুড়ে পানি পরিশোধনে বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, শজনে বীজের নির্যাস ট্যাপের পানিতে থাকা প্রায় ৯৮ শতাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর করতে সক্ষম। গবেষণাটি করেছেন যুক্তরাজ্য ও ব্রাজিলের একদল বিজ্ঞানী, যা সম্প্রতি একটি গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকেরা এক দশকের বেশি সময় ধরে শজনে বীজের উপাদান নিয়ে পরীক্ষা চালান। তারা দেখতে পান, এই বীজের নির্যাস পানিতে থাকা অতিক্ষুদ্র কণাগুলোকে একত্রিত বা জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। পরে এসব জমাট কণা সহজেই ফিল্টারের মাধ্যমে আলাদা করা যায়।
মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা, যার আকার মানুষের চুলের চেয়েও হাজার গুণ ছোট হতে পারে। এসব কণা পানির মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে এবং মস্তিষ্ক, রক্তনালি ও প্রজনন অঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণায় দেখা যায়, শজনে বীজের নির্যাস মানুষের চুলের পুরুত্বের চার ভাগের এক ভাগ আকারের মাইক্রোপ্লাস্টিক কণাকে ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছে।
ব্রাজিলের সাও পাওলো স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আদ্রিয়ানো গন আলভেস দোস রেইস বলেন, শজনে বীজের এই প্রাকৃতিক উপাদানকে পানি পরিশোধনে প্রচলিত রাসায়নিক যেমন অ্যালুমিনিয়াম সালফেট বা ফিটকিরির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
গবেষকদের মতে, শজনে বীজের একটি বড় সুবিধা হলো-এটি ব্যবহারে পানিতে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। অন্যদিকে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারে স্নায়বিক সমস্যাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব পানি পরিশোধন প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।