
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল-এর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পেরনামবুকো ও পারাইবা রাজ্য। পেরনামবুকোর রাজধানী রেসিফে শহরে বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২ জন নিহত হয়েছেন। পাশের শহর অলিন্দা-তেও প্রাণ গেছে আরও ২ জনের। এ রাজ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
অন্যদিকে পারাইবা রাজ্যের রাজধানী জোয়াও পেসোয়া ও ক্যাম্পিনা গ্রান্দে শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন।
দেশটির জাতীয় ঝুঁকি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির সময় মোট ২২টি জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। বর্তমানে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, প্রেসিডেন্ট, ব্রাজিল, জানিয়েছেন তিনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ব্রাজিলে বন্যা ও ভূমিধসসহ বৃষ্টিজনিত দুর্যোগের ঘটনা তিন গুণ বেড়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিনাস জেরাইস রাজ্যে বন্যা ও ভূমিধসে ৬৪ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ২০২৪ সালে রিও গ্রান্দে দো সুল রাজ্যে ১৮৩ জন এবং ২০২২ সালে পেত্রোপোলিস ও রেসিফে শহরে পৃথক বন্যায় কয়েকশ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
সাম্প্রতিক এ দুর্যোগে দেশটিতে আবারও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি ও প্রস্তুতির বিষয়টি সামনে এসেছে।