
নাটোরের সিংড়া উপজেলা-র চলনবিল অঞ্চলে বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমেই দেখা দিয়েছে আগাম বন্যার শঙ্কা। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আত্রাই নদী-র পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ২৬ হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান এখন হুমকির মুখে। এতে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে সিংড়ায় ৩৬ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। বাকি বিপুল পরিমাণ ফসল এখনো মাঠেই রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, একদিকে নদীর পানি দ্রুত বিলে প্রবেশ করছে, অন্যদিকে কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে ফসল রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিশেষ করে হাঁসপুকুরিয়া এলাকার একটি অকেজো স্লুইসগেট দিয়ে পানি ঢুকে পড়ায় আশপাশের কয়েকশ’ হেক্টর জমির ধান সরাসরি ঝুঁকিতে পড়েছে।
শেরকোল ইউনিয়নের জোরমল্লিকা এলাকায় আত্রাই নদীর পানি বাড়ায় কৃষকরা মাটির বাঁধ দিয়ে হাজার হাজার বিঘা জমির ধান রক্ষায় কাজ করছেন। সেখানে ভেকু (এক্সেভেটর) দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ চলছে।
এদিকে সিংড়া অভয়ারণ্য এলাকা, জোরমল্লিকা ব্রিজ, পাটকল কতুয়াবাড়ি ব্রিজসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় ইতোমধ্যে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। বৃষ্টির কারণে শ্রমিক সংকটে ধান কাটাও ব্যাহত হচ্ছে, ফলে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
স্থানীয় কৃষক শাকিল হোসেন বলেন, “ভাঙা স্লুইসগেট দিয়ে পানি ঢোকা ঠেকাতে আমরা কয়েকদিন ধরে বালুর বস্তা ফেলছি। কিন্তু পানির চাপ এত বেশি যে, এই অস্থায়ী ব্যবস্থা কতক্ষণ টিকবে তা নিয়ে শঙ্কা আছে।”
আরেক কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, “১২ বিঘা জমির ধান পানির নিচে চলে যাওয়ার উপক্রম। সারা বছরের খাবার এই জমির ওপর নির্ভর করে।” কৃষক হানিফ প্রামাণিকও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কৃষি বিভাগ নিবিড়ভাবে কাজ করছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আগাম বন্যার শঙ্কা পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজেও এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে চলনবিলের বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।