
রোমানিয়া-তে অনিয়মিত হয়ে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বড় সুখবর এসেছে। দেশটির সরকার নন-ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের অবৈধ কর্মীদের শর্তসাপেক্ষে বৈধ হওয়ার সুযোগ দিয়ে একটি জরুরি অধ্যাদেশ জারি করেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ দূতাবাস বুখারেস্ট এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে।
এর আগে সোমবার (২৭ এপ্রিল) রোমানিয়ার অফিশিয়াল গেজেটে ‘রাজক্ষমা’ (এমনেস্টি) কর্মসূচির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ৩২ নম্বর জরুরি অধ্যাদেশের ৫২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যেসব বিদেশি কর্মী বৈধভাবে রোমানিয়ায় প্রবেশ করার পর বিভিন্ন কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ হয়ে পড়েছেন, তারা এই বিশেষ সুবিধার আওতায় পড়বেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সুযোগ কার্যকর থাকবে।
দূতাবাস জানায়, অনেক বাংলাদেশি কর্মী ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে রোমানিয়ায় গেলেও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান চাকরি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। নিয়ম অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মসংস্থান না পেলে তারা অবৈধ হয়ে পড়েন। এছাড়া, অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্মীর বেতন থেকে কর কেটে রাখলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা দেয় না বা সময়মতো টেম্পোরারি রেসিডেন্স কার্ড (টিআরসি) আবেদন করে না। ফলে অনিচ্ছাকৃতভাবে অনেকেই অবৈধ হয়ে পড়েন—তাদের জন্যই এই রাজক্ষমা।
নতুন আইনের সুবিধা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে আইন কার্যকর হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে রোমানিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তবে শর্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীকে অবশ্যই নতুন ও বৈধ নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে হবে। ওই নিয়োগকর্তার মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহের পর টিআরসি কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে।
তবে দূতাবাস স্পষ্ট করেছে, এই সুযোগ সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। যারা ইতোমধ্যে ‘রিটার্ন ডিসিশন’ পেয়েছেন বা অবৈধভাবে রোমানিয়ায় প্রবেশ করেছেন, তারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না। এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, এটি একটি নতুন ব্যবস্থা হওয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রয়োজন অনুযায়ী দূতাবাসের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এ উদ্যোগে রোমানিয়ায় অবস্থানরত কয়েক হাজার বাংলাদেশি কর্মীর জন্য বৈধ হওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।