ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

ঈদে ১৫ দিনে সড়কে প্রাণ গেল ২৯৮ জনের, প্রতিদিন গড়ে মৃত্যু ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ২, ২০২৬ ৪:১৬ অপরাহ্ণ । ১৩ জন

এবারের ঈদুল ফিতরকে ঘিরে ১৫ দিনে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৪ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ৩৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৯৮ জন এবং আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নারী ৪৬ জন এবং শিশু ৬৭ জন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি প্রাণ কেড়েছে। ১৪৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১৬ জন, যা মোট মৃত্যুর ৩৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। এছাড়া পথচারী নিহত হয়েছেন ৪৭ জন এবং চালক-সহকারী ৩৬ জন।

যানবাহনভিত্তিক হিসেবে বাসযাত্রী নিহত হয়েছেন ৪১ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৫০ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ২০ জন এবং ট্রাক-পিকআপে ১৩ জন। মোট ৬১৮টি যানবাহন এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল, যার মধ্যে মোটরসাইকেল ১৫৩টি এবং থ্রি-হুইলার ১৩৮টি।

সড়কের ধরন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে (৪৩.১৬%), এরপর জাতীয় মহাসড়কে (৩০.৮৩%)। শহরের সড়কে ১১.২৬% এবং গ্রামীণ সড়কে ১২.৮৬% দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি (৪০.৭৫%), এরপর মুখোমুখি সংঘর্ষ (২৫.৭৩%) এবং পথচারীকে চাপা দেওয়ার ঘটনা (১৩.১৩%)। সময়ভিত্তিক হিসেবে সকাল ও দুপুরে দুর্ঘটনার হার বেশি।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। সেখানে ৯৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭৪ জন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম জেলাতেই সর্বোচ্চ ৩২ জন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এবারের ঈদে রাজধানী থেকে ১ কোটির বেশি মানুষ গ্রামে গেছেন এবং সারা দেশে প্রায় ৪ কোটি মানুষ যাতায়াত করেছেন। দীর্ঘ ছুটি থাকলেও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং অনিরাপদ যানবাহনের কারণে ভোগান্তি বেড়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের তুলনায় দুর্ঘটনা বেড়েছে ৬.৪২ শতাংশ, তবে প্রাণহানি কমেছে ১২.২৪ শতাংশ। তবে এটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং কিশোর-যুবকদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালনাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে তিন বছর মেয়াদি সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে রেলপথ সম্প্রসারণ, নৌপরিবহন উন্নয়ন, বিআরটিসির বাস বাড়ানো, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং মহাসড়কে আলাদা সার্ভিস রোড নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, সমন্বিত নীতি ও কার্যকর বাস্তবায়ন থাকলে ভবিষ্যতে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব।