ঢাকাশুক্রবার , ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

রাজধানীতে আলুর দামে বড় পতন, স্বস্তিতে ক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ ১২:৫৪ অপরাহ্ণ । ৪৮ জন

দীর্ঘদিনের চড়া দামের চাপে হাঁসফাঁস করা ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে সবজির বাজার থেকে। বিশেষ করে আলুর দামে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। নতুন মৌসুমের আলু বাজারে আসা এবং সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকা–র বিভিন্ন এলাকায় এখন তুলনামূলক কম দামে আলু বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর অলিগলি, আবাসিক এলাকা ও প্রধান সড়কের পাশে ভ্যানগাড়িতে প্রতি ৭ কেজি আলু ১০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। অর্থাৎ কেজিপ্রতি দাম পড়ছে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ টাকা। কম দামে আলু কিনতে অনেক স্থানে ভ্যানের সামনে ছোটখাটো ভিড়ও দেখা গেছে। খুচরা বাজারেও আলুর দাম নিম্নমুখী রয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আলু ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে কোথাও কোথাও দাম সামান্য ওঠানামা করলেও সামগ্রিকভাবে বাজারে আলুর দর কমেছে।

বিক্রেতারা জানান, গত কয়েক সপ্তাহে মাঠপর্যায়ে আলুর সরবরাহ বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম কমে যাওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। পাশাপাশি পরিবহন খরচ তুলনামূলক কম থাকায় তারা কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন।

এদিকে পেঁয়াজের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা প্রতি ৩ কেজি পেঁয়াজ ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন। এতে নিম্নআয়ের মানুষ একসঙ্গে বেশি পরিমাণে কিনে রাখার সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে স্থায়ী দোকানগুলোতে পেঁয়াজের দাম এখনও তুলনামূলক বেশি। মান ও আকারভেদে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। দেশি ও আমদানিকৃত পেঁয়াজের মধ্যে দামে পার্থক্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

ক্রেতাদের ভাষ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে সংসারের খরচে সরাসরি চাপ পড়ে। আলু ও পেঁয়াজের মতো দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্যে দাম কমায় মাসিক বাজার খরচ কিছুটা কমবে বলে তারা আশা করছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষিপণ্যের সরবরাহ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বাজারদর কমে। তবে এ ধারা টেকসই করতে সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় জরুরি। অন্যথায় মৌসুম শেষে আবারও দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আপাতত বাজারে যে স্বস্তির চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা ধরে রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন। এখন দেখার বিষয়, এই কম দামের ধারা কতদিন স্থায়ী হয় এবং অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাজারেও এমন স্বস্তি আসে কিনা।