ঢাকামঙ্গলবার , ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

১৮০ দিনে ২২ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা শ্রম মন্ত্রণালয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ । ৪৫ জন

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য ২২ দফা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রতি সপ্তাহে উপস্থাপন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত ফলোআপ করতে হবে।

কর্মশালায় জানানো হয়, শ্রম আইন সংস্কার ও আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ শ্রম অধ্যাদেশ, ২০২৫-কে আইনে রূপান্তরের সময়সীমা আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন এবং শিশুশ্রম ও জবরদস্তিমূলক শ্রম বন্ধে আইন প্রণয়নের সময়সীমা ৩০ জুন ২০২৬ ধরা হয়েছে।

ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ সভা গঠনের আওতায় ন্যাশনাল সোশ্যাল ডায়ালগ ফোরাম ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে চালু করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর লক্ষ্যে কর্মসংস্থান অধিদপ্তর গঠন করা হবে ৩০ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে।

জাতীয় কর্মসংস্থান নীতিমালা ২০২২-এর আলোকে জাতীয় কর্মসংস্থান কৌশলপত্র প্রণয়ন ও সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠন ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সহযোগিতায় হালনাগাদ কর্মসংস্থান জরিপ ৩০ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরে শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্নের সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, শ্রম অধিদপ্তর এবং নিম্নতম মজুরি বোর্ডের একাধিক পদে নিয়োগ ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে শেষ করা হবে।

ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিতকরণে ৬৫টি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের মধ্য থেকে উপযুক্ত খাত নির্ধারণ, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও ট্যানারি খাতে মজুরি ঘোষণা, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশন, শ্রম আদালতে এডিআর ব্যবস্থা চালু, কর্মজীবী নারীদের জন্য হোস্টেল চালু, আরএমজি খাতে অ্যান্টি-হ্যারাসমেন্ট কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের সময়সীমা ৩০ জুন ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের আওতা সম্প্রসারণ, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাতা প্রদানের ব্যবস্থাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে বলে কর্মশালায় জানানো হয়।

কর্মশালায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।