কিডনি রোগ নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। কম বয়সী মানুষের মধ্যেই বাড়ছে ক্রনিক কিডনি রোগের ঝুঁকি। কিডনিতে পাথর, সংক্রমণ কিংবা পলিসিস্টিক কিডনি রোগের মতো সমস্যার পাশাপাশি এবার আলোচনায় আসছে তুলনামূলক কম পরিচিত একটি রোগ— ফ্যাটি কিডনি।
ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে অনেকেই পরিচিত হলেও ফ্যাটি কিডনি সম্পর্কে সচেতনতা এখনও কম। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত ওজন, স্থূলতা এবং দীর্ঘদিনের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এই রোগের প্রধান কারণ।
বিশেষজ্ঞরা জানান, কিডনির কেন্দ্রস্থলে একটি গহ্বর থাকে, যাকে রেনাল সাইনাস বলা হয়। এই অংশের ভেতর দিয়েই কিডনির শিরা, ধমনী ও রক্তজালিকা চলাচল করে এবং এখান দিয়েই রক্ত পরিশোধন ও বর্জ্য মূত্রের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। কিন্তু এই রেনাল সাইনাস ও তার আশপাশে যখন অতিরিক্ত মেদ জমতে শুরু করে, তখন রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি হয়।
এর ফলে কিডনির ভেতরে চাপ বেড়ে যায়, সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে এবং প্রস্রাবের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথর জমা, উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি কিডনি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।
চিকিৎসকদের মতে, যাদের ছোটবেলা থেকেই স্থূলতার সমস্যা রয়েছে, যাদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ আছে, তারা ফ্যাটি কিডনির উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। পাশাপাশি রক্তে কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেশি থাকলেও এই রোগের সম্ভাবনা বাড়ে।
ফ্যাটি কিডনি প্রতিরোধে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ভাজাভুজি, ফাস্ট ফুড ও কোমল পানীয় পরিহার করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। হাঁটা, দৌড়ানো ও যোগব্যায়াম কিডনি সুস্থ রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
এছাড়া ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত সিরাম ক্রিয়েটিনিন টেস্ট, ইউরিন ডিপস্টিক টেস্ট এবং ব্লাড ইউরিয়া নাইট্রোজেন (BUN) পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে জীবনযাপন পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাটি কিডনির ক্ষতি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মত বিশেষজ্ঞদের।


