ঢাকামঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. নিরাপদ সড়ক
  3. লাইফস্টাইল

দুর্ঘটনা কমাতে গাড়ির নতুন ‘ডিজিটাল বডিগার্ড’ ADAS

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৯ সকাল

Link Copied!

বর্তমান সময়ের আধুনিক গাড়িগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর প্রযুক্তি হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম’ বা ADAS। সেন্সর, ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সমন্বয়ে তৈরি এই প্রযুক্তি চালকের ভুল সংশোধনের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে সক্ষম হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ADAS ব্যবহারে দুর্ঘটনা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে।

ADAS মূলত গাড়ির একটি ইলেকট্রনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। ক্যামেরা দিয়ে দৃশ্য শনাক্তকরণ, রাডারের মাধ্যমে গতি ও দূরত্ব পরিমাপ এবং লিডার প্রযুক্তির সাহায্যে থ্রি-ডি ম্যাপিং করে গাড়ির চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে এটি। এসব তথ্য গাড়ির ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল ইউনিট (ECU)-এ বিশ্লেষণ করে এআই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্ভাব্য কোনো বিপদ শনাক্ত হলে সিস্টেমটি চালককে সতর্ক করে অথবা প্রয়োজন হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক বা স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ করে।

গাড়ির অটোমেশন প্রযুক্তিকে আন্তর্জাতিকভাবে ০ থেকে ৫—মোট ছয়টি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। লেভেল ০ ও ১-এ চালককে সতর্ক করা ও আংশিক নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়, যেমন ক্রুজ কন্ট্রোল। লেভেল ২-এ স্টিয়ারিং ও ব্রেকিং উভয়ই সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তবে চালককে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হয়। লেভেল ৩, ৪ ও ৫ ধাপে গাড়ি প্রায় বা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলার সক্ষমতা অর্জন করে।

ADAS প্রযুক্তির আওতায় রয়েছে বেশ কিছু জীবনরক্ষাকারী ফিচার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

অ্যাডাপ্টিভ ক্রুজ কন্ট্রোল, যা সামনের গাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে।

স্বয়ংক্রিয় ইমার্জেন্সি ব্রেকিং, যা সংঘর্ষের আগেই ব্রেক কার্যকর করে।

লেন কিপ অ্যাসিস্ট, যা গাড়িকে নির্দিষ্ট লেনের ভেতরে রাখতে সহায়তা করে।

ব্লাইন্ড স্পট মনিটরিং, যা আয়নায় দেখা যায় না এমন জায়গা নজরদারি করে।

এবং ড্রাইভার মনিটরিং সিস্টেম, যা চালকের ক্লান্তি বা ঘুমঘুম ভাব শনাক্ত করে সতর্ক সংকেত দেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারে সড়ক দুর্ঘটনা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। পাশাপাশি দীর্ঘ ভ্রমণে চালকের মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি কমে এবং জ্বালানি সাশ্রয়েও সহায়ক ভূমিকা রাখে ADAS।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে রাস্তার অস্পষ্ট লেন চিহ্ন, অতিরিক্ত ধুলোবালি ও প্রতিকূল আবহাওয়া অনেক সময় সেন্সর ও ক্যামেরার কার্যকারিতায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এছাড়া তুলনামূলকভাবে এই প্রযুক্তির রক্ষণাবেক্ষণ খরচও কিছুটা বেশি।

সব দিক বিবেচনায় ভবিষ্যতে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ADAS প্রযুক্তি অপরিহার্য হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে অনেক সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়িতেও এই প্রযুক্তি যুক্ত করতে শুরু করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

Xiaomi Unveils REDMI 17 5G Featuring a Snapdragon 5G Processor

স্ন্যাপড্রাগন ফাইভজি প্রসেসরসহ রেডমি ১৭ ফাইভজি উন্মোচন করল শাওমি

আগামী গ্রীষ্মের আগে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে: প্রধানমন্ত্রী

পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে সব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দুই বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা

নেপালে অবতরণের সময় দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নিহত ১

বুয়েটের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হলেই মিলবে ই-রিকশার নিবন্ধন

সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হলে ডিলারশিপ বাতিল: কৃষিমন্ত্রী

গ্যাস সংকটের মধ্যে নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসের সন্ধান

এক দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে পাঁচ গুণের বেশি

হিমালয়ে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা, ঝুঁকির মুখে প্রায় ৩ লাখ মানুষ

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে জরুরি প্রস্তুতি, কীসের আশঙ্কায় খাবার-পানি মজুতের পরামর্শ?