
সাধারণ জ্বর, সর্দি ও কাশিতে অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। তাদের মতে, এসব অসুখ বেশিরভাগ সময়ই স্বাভাবিকভাবে সেরে যায়, ফলে অকারণে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন কেবলই ঝুঁকি বাড়ায়। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীতে বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) আয়োজিত সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. জাকির হোসাইন হাবিব।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিকল্পনা ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফরিনা মাহমুদ, অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসাইন মো. মঈনুল আহসানসহ জাতিসংঘ (ইউএন) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধিরা।
বক্তারা জানান, বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন এখনো দেশের বহু মানুষের অভ্যাস। এতে ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে উঠছে, ফলে রোগে আক্রান্ত হলে ওষুধ কাজ না করার ঝুঁকি বাড়ছে।
চিকিৎসকেরা আরও বলেন, অনেক সময় রোগীরা দুই-তিন দিন ওষুধ খেয়ে সুস্থ বোধ করলেই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন বন্ধ করে দেন। কোর্স অসম্পূর্ণ রাখার এই অভ্যাস রোগীর জন্য বিপজ্জনক। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুরো কোর্স শেষ না করলে সংক্রমণ আরও জটিল হতে পারে।
সেমিনারে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং যেকোনো অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে অনুরোধ করা হয়।