ঢাকামঙ্গলবার , ১১ নভেম্বর ২০২৫

জার্মানওয়াচের নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ পাবে বেলেমে COP30-এ

তিন দশকে চরম আবহাওয়ায় প্রাণ হারিয়েছে ৮ লাখেরও বেশি মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ১১, ২০২৫ ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ । ৩৩৪ জন

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। গত তিন দশকে চরম আবহাওয়ার নির্মম বাস্তবতা পৃথিবীজুড়ে রেখে গেছে ভয়াবহ মৃত্যু ও ক্ষতির দাগ। ১৯৯৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৯ হাজার ৭০০টিরও বেশি চরম আবহাওয়ার ঘটনায় ৮ লাখ ৩২ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, আর অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৪.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ব্রাজিলের বেলেম শহরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন COP30-এ জার্মানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মানওয়াচ তাদের নতুন প্রতিবেদন “গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স (CRI) 2026” উপস্থাপন করবে, যেখানে এই তথ্য উঠে এসেছে।

১৯৯৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি দেশ হলো-

১. ডোমিনিকা
২. মিয়ানমার
৩. হন্ডুরাস
৪. লিবিয়া
৫. হাইতি
৬. গ্রেনাডা
৭. ফিলিপাইন
৮. নিকারাগুয়া
৯. ভারত
১০. বাহামা

অন্যদিকে ২০২৪ সালের জন্য পৃথকভাবে দেখা গেছে-সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, গ্রেনাডা, চাদ, পাপুয়া নিউ গিনি, নাইজার, নেপাল, ফিলিপাইন, মালাউই, মিয়ানমার ও ভিয়েতনাম।

তিন দশকে মিয়ানমার ৫৫টি চরম আবহাওয়ার ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে-মূলত বন্যা-যার ফলে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৮.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।

ফিলিপাইন ৩৭১টি চরম আবহাওয়ার শিকার হয়েছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায় ও উন্নয়নের জন্য একটি ক্রমাগত হুমকি। ভারতও একইভাবে বন্যা, তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড় ও খরার মতো নানা চরম আবহাওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ২০০৮ সালের ঘূর্ণিঝড় নার্গিস, যা মিয়ানমারে আঘাত হেনে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। বন উজাড়, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস ও মানবিক সহায়তার বদলে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় ওই দুর্যোগের প্রভাব আরও তীব্র হয়েছিল।

COP30-এ আলোচকরা এখন তীব্র চাপে আছেন-জলবায়ু অভিযোজনের স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলির জন্য টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং বিশ্বব্যাপী জলবায়ু কর্মসূচি ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু-সৃষ্ট চরম আবহাওয়া দিন দিন বাড়ছে, যা বিশ্বব্যাপী নির্গমন হ্রাস ও অভিযোজন প্রচেষ্টা জোরদারের জরুরি প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

ডেভিড একস্টেইন, জার্মানওয়াচের জলবায়ু অর্থায়ন ও বিনিয়োগ বিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা বলেন, “CRI 2026-এর ফলাফল স্পষ্ট করে যে COP30-কে বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার ঘাটতি পূরণের কার্যকর উপায় বের করতে হবে। নির্গমন অবিলম্বে কমানো না গেলে বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় বাড়বে। একইসাথে অভিযোজন প্রচেষ্টা এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন জরুরি।”

ভেরা কুনজেল, জলবায়ু অভিযোজন ও মানবাধিকার বিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা, বলেন, “হাইতি, ফিলিপাইন ও ভারতের মতো দেশগুলো এত ঘনঘন বন্যা, তাপপ্রবাহ ও ঝড়ে আক্রান্ত হয় যে একটি দুর্যোগের প্রভাব কাটার আগেই পরেরটি এসে পড়ে। দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা ছাড়া এসব দেশ অপ্রতিরোধ্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।”

লরা শেফার, জার্মানওয়াচের আন্তর্জাতিক জলবায়ু নীতি বিভাগের প্রধান, বলেন- “চরম আবহাওয়ার ঘটনায় তাপপ্রবাহ ও ঝড় মানবজীবনের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। ঝড়ে সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়, আর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সবচেয়ে বেশি মানুষ।”

এই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হবে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে, ব্রাজিলের বেলেমে COP30 সম্মেলনের প্রেস কনফারেন্স রুম ২ (এরিয়া ডি)-তে। অনলাইনে সরাসরিও এটি অনুসরণ করা যাবে।

তবে প্রতিবেদন ও উপকরণসমূহ বুধবার (১২ নভেম্বর) সকাল ২টা ৩০ মিনিট IST/ ভোর ৫টা MYT পর্যন্ত প্রকাশ-নিষিদ্ধ (embargoed)।