
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলেও রোগীরা পাচ্ছেন না তাদের সেবা। খাতা-কলমে ১০৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলেও তারা নিয়মিত রোগী দেখেন না। নামমাত্র অফিস সময়ে দ্রুত রাউন্ড দিয়ে চলে যান, আর রাতে ও জরুরি মুহূর্তে দায়িত্ব পড়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক, আয়া, ওয়ার্ডবয় ও ঝাড়ুদারদের ওপর।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকরা সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব এড়িয়ে ব্যক্তিগত ক্লিনিক ব্যবসায় মনোযোগী। ফলে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছেন, আবার অনেককে অন্যত্র রেফার্ড করা হচ্ছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা মোবাইল ফোনে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থাপত্র লিখছেন, যা নিয়মবহির্ভূত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অস্ত্রোপচার ও সেলাইয়ের মতো কাজও করছেন আয়া ও ওয়ার্ডবয়রা। তারা রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ইনজেকশন, স্যালাইন, সুঁই-সুতোসহ সামগ্রী কেনার তালিকা দেন, পরে সেগুলো বিক্রি করে হাসপাতালের সরবরাহকৃত জিনিস ব্যবহার করেন। এতে রোগীদের জিম্মি করে অর্থ বাণিজ্যও চলছে।
রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ওয়ার্ড রাউন্ড নামমাত্র; রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন না, আবার রাতে আসেন না। এতে অনেক গুরুতর রোগী ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।