ঢাকামঙ্গলবার , ২৮ জুলাই ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. নিরাপদ সড়ক

গণপরিবহনে ভোগান্তি, বাড়তি খরচ ও হয়রানি: দুর্ভোগে কর্মজীবী নারীরা

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ জুলাই ২০২৬, ৪:৪৬ বিকাল

Link Copied!

রাজধানীতে প্রতিদিন কর্মস্থলে যেতে গণপরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয় হাজারো কর্মজীবী নারীকে। কিন্তু পর্যাপ্ত বাস না থাকা, অতিরিক্ত ভিড়, নির্ধারিত আসন দখল করে রাখা, যানজট ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রতিদিনই নানা ভোগান্তির মুখে পড়ছেন তারা। বাধ্য হয়ে অনেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা কিংবা অ্যাপসভিত্তিক যানবাহন ব্যবহার করছেন। এতে মাসিক আয়ের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে শুধু যাতায়াত খরচে।

দুই সন্তানের জননী আঁখি আক্তার রাজধানীর গুলশানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মাসে তার বেতন ৩৫ হাজার টাকা। থাকেন লালবাগে। দুই সন্তানের স্কুল লালবাগে হওয়ায় সেখানেই থাকতে হয় তাকে। প্রতিদিন অফিসে যাওয়া-আসায় গণপরিবহনই তার প্রধান ভরসা।

বাসা থেকে হেঁটে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে প্রায়ই বাস পান না আঁখি। বাস পেলেও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক সময় উঠতে পারেন না। ফলে অফিসে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা কিংবা অ্যাপসভিত্তিক যানবাহন ব্যবহার করতে হয় তাকে। অফিস থেকে ফেরার সময়ও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

আঁখি বলেন, ‘প্রায় দিনই আমি বাসে উঠতে পারি না। প্রচণ্ড ভিড় থাকে। অটোরিকশা বা মোটরসাইকেলে যেতে গেলে অনেক টাকা খরচ হয়। যা বেতন পাই, তার অর্ধেকই চলে যায় যাতায়াতে।’

মোটরসাইকেলে চলাচলেও স্বস্তি নেই বলে জানান তিনি। আঁখির ভাষ্য, মোটরসাইকেলে উঠতে ভয় লাগে। কারণ অনেক চালক দ্রুতগতিতে যান। তাই তুলনামূলক নিরাপদ মনে হওয়ায় অটোরিকশাকেই ভরসা করেন তিনি।

ভোরে বের হয়েও ভোগান্তি

মিরপুর-১২ নম্বরে সপরিবারে থাকেন ৩৩ বছর বয়সী রোকসানা। একটি বেসরকারি বীমা কোম্পানিতে চাকরি করেন তিনি। প্রায় ১০ বছর ধরে মিরপুর থেকে মতিঝিলে যাতায়াত করছেন। প্রতিদিনের ভোগান্তি এড়াতে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

রোকসানা বলেন, ওই সময় বাস কিছুটা ফাঁকা থাকে এবং সড়কেও যানজট তুলনামূলক কম থাকে। তবে তাড়াতাড়ি বের হওয়ার কারণে অফিস শুরুর প্রায় আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা আগেই মতিঝিলে পৌঁছে যান। তখন অফিসের নিচে বসে সময় কাটাতে হয়।

তার মতে, বেতন খুব বেশি নয়। তাই প্রতিদিন সিএনজি বা অ্যাপসভিত্তিক যানবাহনে চলাচল করলে বেতনের বড় অংশই যাতায়াতে চলে যাবে। ফলে বাধ্য হয়েই গণপরিবহন ব্যবহার করতে হয়।

তিনি বলেন, ‘যেদিন বাসা থেকে বের হতে দেরি হয়, সেদিন অনেক কষ্টে গাড়িতে উঠতে হয়। এজন্য অনেকবার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রায় সময়ই বসার কোনো সিট পাই না। এমনকি নারীদের জন্য নির্ধারিত আসনেও পুরুষরা বসে থাকেন।’

রোকসানা জানান, বাসের হেলপার নারীদের আসন ছেড়ে দিতে বললেও অনেক পুরুষ যাত্রী তা মানতে চান না। এ নিয়ে অনেক সময় তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। ফলে বাধ্য হয়ে পুরো পথ দাঁড়িয়েই যেতে হয়।

বাসে ওঠাই যেন যুদ্ধ

শুধু আঁখি বা রোকসানা নন, ঢাকার অধিকাংশ কর্মজীবী নারীকে প্রতিদিনই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলে অফিস শুরুর এবং শেষ হওয়ার সময় গণপরিবহনে ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

কর্মজীবী নারী কামরুন নাহার বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে নারী কর্মজীবীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়ছে না। সকাল এবং বিকেল ৫টার পর বাসে ওঠা অনেকটা যুদ্ধের মতো।

তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ নারীই তখন বাসে উঠতে পারেন না। আমি নিজেও প্রায় সময় অফিস থেকে আড়াই কিলোমিটার হেঁটে বাসায় আসি। কোনোভাবে বাসে উঠতে পারলেও সিট পাওয়া তো দূরের কথা, ভালোভাবে দাঁড়ানো পর্যন্ত যায় না। এর সঙ্গে রয়েছে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা।’

পরিবহন সংকটে বাড়ছে বাড়তি খরচ

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, গণপরিবহনে কর্মজীবী নারীদের ভোগান্তি ও হয়রানি তুলনামূলক বেশি। চালকের লাইসেন্স না থাকা, যানবাহনের ফিটনেস না থাকা এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চলার কারণে অনেক সময় সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যায়। তখন নারীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা কিংবা অ্যাপসভিত্তিক যানবাহনে চলাচল করতে হয়। এতে গণপরিবহনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হয়। আবার অনেক সময় অতিরিক্ত ভিড় ঠেলে বাসে উঠতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতা ও হয়রানিরও শিকার হতে হয় নারীদের।

নারীদের জন্য বাসের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক বলেন, গণপরিবহনে দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে এ দুর্ভোগ পোহাতে হলেও নারীদের ভোগান্তি তুলনামূলক বেশি।

তিনি বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নারীদের জন্য কিছু বাস চলাচল করে। পাশাপাশি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘দোলনচাঁপা’ নামে একটি বাস মিরপুর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলাচল করে। তবে কর্মজীবী নারীর সংখ্যার তুলনায় এসব বাসের সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল।

মোজাম্মেল হক আরও বলেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কারণে অনেক সময় সড়কে গাড়ির সংখ্যা কমে যায়। এতে গণপরিবহনের সংকট আরও প্রকট হয়।

তবে কর্মজীবী নারীসহ সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সরকার আরও বাস নামানোর কথা চিন্তা করছে বলেও জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞ ও যাত্রীদের মতে, কর্মজীবী নারীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে শুধু বাসের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; নারীদের জন্য পর্যাপ্ত আসন, নিরাপদ পরিবেশ, দক্ষ চালক এবং গণপরিবহনে নিয়মিত নজরদারিও নিশ্চিত করতে হবে। তবেই কর্মজীবী নারীদের প্রতিদিনের যাতায়াতের এই দুর্ভোগ অনেকটা কমানো সম্ভব হবে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

বন্যার পর দুই বছরেও সংস্কার হয়নি সড়ক, দুর্ভোগে কুমিল্লার ১০ গ্রামের মানুষ

পানি সুরক্ষায় দ্রুত বিনিয়োগ ও সংস্কারের আহ্বান এডিবি প্রেসিডেন্টের

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস আজ

সোনারগাঁয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের ধাক্কা, পথচারী নিহত

বৃষ্টি থামার নাম নেই, আরও ৫ দিন ভেজার পূর্বাভাস

শাহজালালে অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত

সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর

দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা-ভূমিধস পরিস্থিতির উন্নতি

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব করতে কাজ করছে সরকার: মন্ত্রী

হাওরের বন্যা ঠেকাতে ব্রির নতুন ধান, ফলন ৮.৫ টন পর্যন্ত

Titan Battery of realme C100i Steals the Spotlight: A New Chapter in Long-lasting Battery Life

দীর্ঘ সক্ষমতা নিয়ে আলোচনায় রিয়েলমি সি১০০আইয়ের টাইটান ব্যাটারি