ঢাকাবুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. লাইফস্টাইল

জাতিসংঘে শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রস্তাব: ১৪২ পক্ষে, ১০ বিপক্ষে, ১২ বিরত

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১:৪৯ বিকাল

Link Copied!

২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ ভোটে শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্পর্কিত “নিউ ইয়র্ক ঘোষণা” অনুমোদনের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ভোটাভুটির ফলাফল অনুযায়ী মোট ১৪২টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে, মাত্র ১০টি দেশ এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ১২টি দেশ ভোটদানে বিরত থেকেছে। এই ফলাফল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করছে।

ভোটাভুটির ফলাফল থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে অধিকাংশ দেশ বৈশ্বিক সংকট ও বিরোধের সমাধান কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে করার পক্ষে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, রাশিয়া এবং পানামার মতো কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিভাজনকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে চীন, ভারত, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বের বড় অংশের দেশসমূহ প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

ভোটে অনুপস্থিত না থেকে ভোটদানে বিরত থাকা ১২টি দেশও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক ধরনের কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে। দক্ষিণ সুদান, আলবেনিয়া, গватেমালা, সামোয়া এবং উত্তর মেসিডোনিয়ার মতো দেশগুলো সরাসরি বিরোধিতা না করলেও, প্রস্তাবের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সমর্থনও দেয়নি। সাধারণত এ ধরনের বিরত ভোট কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান, কূটনৈতিক সম্পর্ক বা দ্বিধাগ্রস্ত পররাষ্ট্রনীতির ইঙ্গিত বহন করে।

এই ভোটের মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে আন্তর্জাতিক পরিসরে শান্তিপূর্ণ আলোচনার প্রতি একধরনের ব্যাপক সমর্থন তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবটির মাধ্যমে জাতিসংঘ সদস্য দেশগুলোকে শান্তি প্রতিষ্ঠা, কূটনৈতিক সংলাপ এবং আলোচনাভিত্তিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানিয়েছে। প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে প্রধানত ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আঞ্চলিক স্বার্থ এবং নিরাপত্তা কৌশলের বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো দেশগুলো নিজেদের কৌশলগত নিরাপত্তা নীতি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের কারণেই শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। অন্যদিকে রাশিয়ার বিরোধিতা চলমান ভূরাজনৈতিক সংকট এবং পশ্চিমাদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে দেখা হয়েছে। তবে এসব বিরোধিতা প্রস্তাবটির শক্তি খর্ব করতে পারেনি, কারণ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই ভোট বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটি প্রতীকী কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। এটি দেখিয়েছে যে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ যুদ্ধ বা সংঘাত নয়, বরং শান্তিপূর্ণ আলোচনাকে সামনে রাখতে চায়। তবে একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক বিভাজনকেও সামনে এনেছে, যেখানে শক্তিধর কিছু দেশ এখনও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পরিবর্তে কঠোর কৌশল অবলম্বন করতে আগ্রহী।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৫ সালের এই ভোট বৈশ্বিক কূটনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এটি শুধু শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি আন্তর্জাতিক ঐক্যকেই তুলে ধরেনি, বরং বিরোধী ও বিরত থাকা দেশগুলোর অবস্থানকেও স্পষ্ট করেছে। ফলে বিশ্ববাসীর চোখ এখন জাতিসংঘের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, যা এই প্রস্তাবকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয় সেটিই হবে আগামী দিনের বড় প্রশ্ন।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

Xiaomi Unveils REDMI 17 5G Featuring a Snapdragon 5G Processor

স্ন্যাপড্রাগন ফাইভজি প্রসেসরসহ রেডমি ১৭ ফাইভজি উন্মোচন করল শাওমি

আগামী গ্রীষ্মের আগে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে: প্রধানমন্ত্রী

পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে সব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দুই বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা

নেপালে অবতরণের সময় দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নিহত ১

বুয়েটের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হলেই মিলবে ই-রিকশার নিবন্ধন

সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হলে ডিলারশিপ বাতিল: কৃষিমন্ত্রী

গ্যাস সংকটের মধ্যে নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসের সন্ধান

এক দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে পাঁচ গুণের বেশি

হিমালয়ে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা, ঝুঁকির মুখে প্রায় ৩ লাখ মানুষ

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে জরুরি প্রস্তুতি, কীসের আশঙ্কায় খাবার-পানি মজুতের পরামর্শ?