
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার (১৩ জুন) দিনব্যাপী কক্সবাজার সফরে পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষি উন্নয়ন ও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। সফরে তিনি প্রতিশ্রুত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
সফরের শুরুতে সকালে কক্সবাজার সদরের পিএমখালী এলাকায় পাতলী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় তিনি বলেন, কৃষকদের স্বাবলম্বী করা এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকার সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের জন্য বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে বীজ ও কীটনাশক কেনার জন্য এককালীন আড়াই হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এই সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক এলাকায় সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনের পর তিনি সাফারি পার্ক এলাকা পরিদর্শন করেন।
দুপুরে পেকুয়া উপজেলায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শহীদ মো. ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করে তার পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন তিনি। পরে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানগুলোতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা বক্তব্য দেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয়। তার সফরকে ঘিরে বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন কর্মসূচিস্থল পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকপোস্ট স্থাপন এবং যান চলাচলে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
দিনব্যাপী সফরের অংশ হিসেবে চকরিয়া পৌরসভায় জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন এবং কলাতলী এলাকার একটি হোটেলে স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।
কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং স্থানীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।