
ইরানের অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়েছে অন্তত ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ। এর মধ্যে ৩২০টিরও বেশি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Arab News জানায়, বুধবার (২ এপ্রিল) আরব উপসাগরে জাহাজগুলো আটকা পড়ে। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে সীমিত ও কঠোর নিয়ন্ত্রণে জাহাজ চলাচল করছে।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা Kpler জানিয়েছে, মঙ্গলবার ও বুধবারের মধ্যে মাত্র ছয়টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করতে পেরেছে, যেখানে আগে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করত।
আটকে পড়া জাহাজগুলোর মধ্যে ১২টি বড় গ্যাসবাহী জাহাজ এবং ৫০টি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার রয়েছে। যেসব জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোকে ইরানের উপকূলের কাছে লারাক দ্বীপ–এর একটি নির্দিষ্ট করিডোর দিয়ে পার হতে হচ্ছে।
জানা গেছে, গত সপ্তাহ থেকে অন্তত ৪৮টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে, যার বেশিরভাগই ইরানের মিত্র দেশগুলোর। অনুমতি পাওয়া জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত মাশুল দিতে হচ্ছে, যা ‘তেহরান টোল বুথ’ নামে পরিচিত।
তবে মালয়েশিয়াসহ কিছু মিত্র দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে এই মাশুল মওকুফ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। দেশটির কোম্পানি Petronasসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ট্যাংকার এখনও অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিকে চীন জানিয়েছে, সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের অন্তত তিনটি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি ভারত ও অন্যান্য দেশের কিছু জাহাজ বিকল্প পথে চলাচল করছে।
পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরব ও কাতার–এর মতো প্রধান জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলোর রফতানি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে শত শত জাহাজ ও প্রায় ২০ হাজার নাবিক উপসাগরে আটকা পড়েছেন।
সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। যুক্তরাজ্য প্রায় ৩৫টি দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে। অন্যদিকে চীন ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন, তা না হলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে চলমান এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।