ঢাকাবুধবার , ১৭ জুন ২০২৬
  1. সর্বশেষ

রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলার অভিযোগ ভারতের বিরুদ্ধে

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ

Link Copied!

মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, দিল্লি থেকে আটক করে ৪০ জন রোহিঙ্গাকে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে বঙ্গোপসাগরের দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে লাইফজ্যাকেট দিয়ে তাদের সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।

তথ্য বলছে, মিয়ানমারে বর্তমানে সেনা অভ্যুত্থানের পর গৃহযুদ্ধ চলছে। দেশজুড়ে গণবিক্ষোভ ও জাতিগত গোষ্ঠীর প্রতিরোধ অব্যাহত থাকায় রোহিঙ্গারা বহু বছর ধরে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিচ্ছেন। তাদের অনেকেই বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।

নুরুল আমিন নামের এক যুবক তার ভাই খাইরুলসহ চারজনকে ২০২৩ সালের মে মাসে ভারত থেকে জোরপূর্বক মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর খবর জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারে যেখানে প্রতিদিন যুদ্ধ চলছে, সেখানে তাদের জীবন আজ চরম অনিশ্চয়তায়।

প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গারা জানান, দিল্লির বিভিন্ন থানায় ডেকে পাঠানোর পর তাদের আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর হিন্দন বিমানবন্দর থেকে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে পাঠানো হয়। সেখান থেকে বাসে করে নৌবাহিনীর জাহাজে আনা হয়। বাসে লেখা ছিল— “ভারতীয় নৌবাহিনী।”

জাহাজে প্রায় ১৪ ঘণ্টা তাদের আটকে রাখা হয়। এসময় মারধর ও অপমানের শিকার হন তারা। কারও হাত বেঁধে, কারও মুখ ঢাকা অবস্থায় রাখা হয়। কয়েকজনকে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। পরবর্তীতে ছোট রাবারের নৌকায় তুলে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। বলা হয়েছিল, তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছেন, কিন্তু বাস্তবে তারা মিয়ানমারে গিয়ে পৌঁছান। স্থানীয় জেলেরা তাদের উদ্ধার করে প্রতিরোধ গোষ্ঠী বাহটু আর্মি আশ্রয় দেয়।

জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ ঘটনাটিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের এই পদক্ষেপ রোহিঙ্গাদের জীবনকে “চরম ঝুঁকির মুখে” ঠেলে দিয়েছে। ভারতীয় মিশনের কাছে তিনি প্রমাণ জমা দিলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাননি।

ভারতে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি নেই; তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে গণ্য করা হয়। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা নিবন্ধিত হলেও প্রকৃত সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি। অন্যদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।

রোহিঙ্গাদের পরিবার এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। নুরুল আমিন বলেন, “ভারত সরকার যে কোনো সময় আমাদেরও ধরে নিয়ে সমুদ্রে ফেলে দেবে।”

এ বিষয়ে রোহিঙ্গারা ভারতের সুপ্রিম কোর্টে নির্বাসন বন্ধের আবেদন করেছেন। তবে শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি অভিযোগগুলোকে “অবাস্তব কল্পনা” বলে মন্তব্য করেন। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর।

সূত্র: বিবিসি নিউজ

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

মিঠাপানির মাছের রোগ নিয়ন্ত্রণে গবেষণার বিকল্প নেই: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

মৎস্যখাতে টেকসই উন্নয়নে মৌলিক গবেষণার ওপর জোর দিলেন মন্ত্রী

তামাকপণ্যের দাম বাড়ালে ৪ লাখ মৃত্যু প্রতিরোধ সম্ভব: আহছানিয়া মিশন

আগামী চার দিনজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা, কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণের আশঙ্কা

DNCC, ARK Foundation Join Forces to Make Dhaka Bus Terminals Tobacco-Free

ঢাকার বাস টার্মিনালগুলো ধূমপানমুক্ত করতে একজোট ডিএনসিসি ও আর্ক ফাউন্ডেশন

Will Your Team Lift the Trophy? Maybe. But, Your World Cup Moment with OPPO Is Guaranteed

আপনার পছন্দের দল ট্রফি জিতুক বা না জিতুক, অপোর সাথে আপনার ‘ওয়ার্ল্ড কাপ মোমেন্ট’ একদম নিশ্চিত!

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন, শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীরা

চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স ৩৪.৩৮ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ১৮.৬১ শতাংশ

জুনে আরও ৪ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার