রাজশাহীর পুঠিয়ায় নছিমন ও বালুবোঝাই ড্রাম ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত চারজন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুঠিয়া পৌরসভার গন্ডগোহালী গ্রামের নিমতলা এলাকায় পুঠিয়া–তাহেরপুর আঞ্চলিক সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাধনপুর থেকে পুঠিয়াগামী শ্যালো মেশিনচালিত মুরগিবোঝাই একটি নছিমনের সঙ্গে পুঠিয়া থেকে তাহেরপুরগামী বালুবোঝাই একটি ড্রাম ট্রাকের (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: কুষ্টিয়া ট–১১–০২১৬) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং অপরজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
সংঘর্ষের সময় নছিমনের ওপর থাকা শ্রমিক নাইম (২০), হামিম (২৫) ও চালক মো. সোহেল (৩৮) রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শ্রমিক নাইম ও হামিমকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত দুজনই রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার হরগ্রাম শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
আহত নছিমন চালক মো. সোহেল প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
দুর্ঘটনার পর ড্রাম ট্রাকের চালক মো. মিন্টু (৪০) ও তার সহকারী মো. স্বাধীন আলী (২২) পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ট্রাকের হেলপার মো. স্বাধীন আলীকে আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয়। ট্রাক চালক মো. মিন্টুকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মুরগি ব্যবসায়ী মামুন হোসেন বলেন, “আমার গাড়ির দুজন লোক মারা গেছে। প্রায় দেড় লাখ টাকার মুরগি ছিল। বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি।”
পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, “বালুবোঝাই ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে মুরগিবাহী নছিমনের সংঘর্ষে দুজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এখনো কোনো মামলা হয়নি। স্বজনরা এলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


