ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২০ অগাস্ট ২০২৬
  1. সর্বশেষ

মধুমতীর ভাঙনে বিলীন শতবর্ষী সাচিয়া বাজার, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৫ সকাল

Link Copied!

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী সাচিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। মধুমতী নদীর তীব্র স্রোতে ইতোমধ্যে কয়েকটি দোকান ও বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চলা ভাঙন নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে গত ১০ আগস্ট। এতে অন্তত সাতটি দোকান ও বসতঘর নদীতে তলিয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তীব্র স্রোতে প্রতিনিয়ত ভেঙে পড়ছে নদীতীরের স্থাপনা। ইতোমধ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটিও নদীগর্ভে চলে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে শত বছরের পুরোনো সাচিয়া বাজারের মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। যেকোনো সময় এসব স্থাপনাও নদীতে বিলীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নদীভাঙনে একের পর এক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতভিটা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। অনেক পরিবার সহায়-সম্বল ও ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন ভাড়া বাসায়। এতে নদীকূলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

৭০ বছর বয়সী বিজলী বিশ্বাস জীবনের শেষ বয়সে এসে সরকারের কাছে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই চেয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার উদ্যোগ নিলে বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব।

প্রায় ৮০ বছর বয়সী রূপা রানী দাস ছোটবেলায় বিয়ের পর সাচিয়া বাজারে স্বামীর সংসারে এসেছিলেন। দীর্ঘদিনের নদীভাঙনে তিনি হারিয়েছেন স্বামীর সমাধির শেষ চিহ্নটুকুও। হারিয়েছেন সাতটি ভিটা। বর্তমানে অন্যের ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন তিনি। নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় পুরোনো ক্ষত যেন আবারও জেগে উঠেছে। উদ্বেগ আর আতঙ্কে দিন কাটছে তার।

একসময় সাচিয়া বাজারের বড় ব্যবসায়ী ছিলেন কৃপা বিশ্বাস। মধুমতীর ভাঙনে আজ তিনি নিঃস্ব। তিনি বলেন, শত বছরের পুরোনো এই হাটটি টিকে থাকলে শত শত মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। তাই দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

মধুমতীর পাড়ের মানুষের এমন নিঃস্ব হওয়ার গল্পের শেষ নেই। কারও দোকান গেছে, কারও বসতভিটা, আবার কেউ হারিয়েছেন বংশপরম্পরায় ধরে রাখা শেষ স্মৃতিটুকুও। তাই স্থানীয়দের দাবি, শুধু অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলে এই ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়। সাচিয়া বাজার, ধর্মীয় উপাসনালয় ও বসতভিটা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাশেদ খান জানান, ভাঙনের খবর পাওয়ার পর সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের ভিত্তিতে জরুরি পর্যায়ে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তবে ব্লক বা বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের প্রক্রিয়া দীর্ঘ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

কলেরা হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মনো-সামাজিক পরিচর্যায় পুলিশকে প্রশিক্ষণ, ভুক্তভোগীকে উন্নত সেবা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব

মানুষের বদলে দেওয়া পৃথিবীতে দ্রুত বদলে যাচ্ছে প্রাণিজগৎ

রোগ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, কোথাও হতে পারে ভারী বর্ষণ

জাপানে ট্রেনের ধাক্কায় চার রেলশ্রমিক নিহত

স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ল, ভরি কত?

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিস্কুট উৎপাদন, বেকারিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা

ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ১ হাজার ৮৪১ মামলা

তিস্তার ভাঙনে বিলীন স্কুল, পরে ফেলা হচ্ছে জিওব্যাগ

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা, বরগুনা পৌরসভায় বাড়ছে জনভোগান্তি

দুপুরের মধ্যে ৬ জেলায় ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা