
টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে বেড়েছে শাকসবজির দাম। তবে ডিম ও মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলছে ক্রেতাদের জন্য।
শুক্রবার (২০ জুন) যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া, দোলাইরপাড়সহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। লাউ, কুমড়া, করলা, ঢেঁড়স, বরবটি, শসা, বেগুনসহ বেশ কয়েকটি সবজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। আকারভেদে প্রতি পিস লাউ ও জালি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়।
সবজি বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে মাঠ থেকে সবজি তোলা ও শহরে পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। এতে সরবরাহ কমে গেছে, ফলে দাম কিছুটা বেড়েছে।
ক্রেতাদের ভাষ্য, সবজির দাম কিছুটা বাড়লেও ডিম ও মুরগির দামে স্বস্তি থাকায় খরচ কিছুটা সামাল দেওয়া যাচ্ছে।
বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২৫ টাকায়। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়, যা ঈদের আগের ১৭০-১৮০ টাকার তুলনায় অনেকটাই কম। কক মুরগি (সোনালি) কেজিতে ২০-৩০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়।
যাত্রাবাড়ী আড়তে মুরগি কিনতে আসা ক্রেতা মামুন বলেন, “অনেক দিন ১৮০-২০০ টাকায় ব্রয়লার কিনছি। এখন ১৪০ টাকায় পাচ্ছি। জানি না আবার কখন দাম বেড়ে যাবে। বাজার সিন্ডিকেট না ভাঙলে সাধারণ মানুষের কষ্ট কমবে না।”
এদিকে মাছের বাজারে দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে রুই ২৮০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতল ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা, পাবদা ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা, টেংরা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কৈ ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। তবে দেশি জাতের শিং ও কৈ যথাক্রমে ১২০০ ও ১০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
সবজি বিক্রেতা জামাল হোসেন বলেন, “বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কম। তাই একটু বেশি দামে আনতে হচ্ছে, তাই বিক্রিও একটু চড়া দামে হচ্ছে। আবহাওয়া ঠিক হলে আবার আগের দামে ফিরে আসবে।”
বিক্রেতাদের দাবি, এ ধরণের দাম বৃদ্ধি মৌসুমি ব্যাপার। বৃষ্টির পানি নেমে গেলে বাজার আবার স্থিতিশীল হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন তারা।