
বিশ্বজুড়ে পোষা প্রাণীর মধ্যে বিড়ালের জনপ্রিয়তাও ক্রমেই বাড়ছে। একসময় কেবল ইঁদুর ধরার কাজে ব্যবহৃত হলেও এখন বিড়াল অনেক দেশের পরিবারে স্নেহশীল ও শান্ত স্বভাবের সঙ্গী হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য, একাকীত্ব কমানো, বাসায় শান্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং সহজ পরিচর্যার সুবিধা-এ সব কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন বিড়াল পোষার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিড়াল পোষার সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে পোষা বিড়ালের সংখ্যা ৭৪ মিলিয়নের বেশি। এশিয়ার চীন, জাপান ও ভারত; আর লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, মেক্সিকো ও আর্জেন্টিনায়ও দ্রুত বাড়ছে বিড়াল পোষা।
শীর্ষ দেশগুলোর তালিকা ও বিড়াল পোষার প্রবণতার বিস্তারিত
১. যুক্তরাষ্ট্র – ৭৪.১ মিলিয়ন
বিশ্বের সবচেয়ে বড় পোষা প্রাণীর বাজার যুক্তরাষ্ট্র। উন্নত ভেটেরিনারি সেবা, পেট-ইন্স্যুরেন্স, ক্যাট ডে-কেয়ার, বিশেষ খাবার ও খেলনা—সব মিলিয়ে বিড়াল অনেক পরিবারে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
২. চীন – ৫৮.০ মিলিয়ন
নগরায়ণ, অ্যাপার্টমেন্ট লাইফস্টাইল এবং ব্যস্ত মানুষের জন্য সহজ পরিচর্যার কারণে চীনে বিড়াল পোষার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বড় শহরে ক্যাট ক্যাফে দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে।
৩. ব্রাজিল – ৩৩.৬ মিলিয়ন
শহুরে মানুষের কাছে বিড়াল সহজ পরিচর্যার জন্য জনপ্রিয়। বিশেষ করে একাকী বসবাসকারী ও চাকরিজীবীদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে বিড়াল পোষা।
৪. রাশিয়া – ২৩.৩ মিলিয়ন
ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে লম্বা লোমওয়ালা জাতের বিড়াল যেমন সাইবেরিয়ান, রাশিয়ান ব্লু বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
৫. মেক্সিকো – ১৬.২ মিলিয়ন
কম খরচে পরিচর্যা ও ঘরের অভ্যন্তরে সহজে মানিয়ে নেওয়ার কারণে মেক্সিকোতে বিড়াল পোষা ব্যাপক।
৬. জার্মানি – ১৫.২ মিলিয়ন
নিয়ন্ত্রিত পোষা প্রাণী ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ–সব মিলিয়ে জার্মানিতে বিড়াল পোষা অত্যন্ত পরিশীলিত।
৭. ফ্রান্স – ১৪.৯ মিলিয়ন
ফ্রান্সে ছোট ও মাঝারি জাতের বিড়াল বেশি দেখা যায়। ক্যাট-ফ্রেন্ডলি ক্যাফে এবং ক্যাট-শো খুবই জনপ্রিয়।
৮. যুক্তরাজ্য – ১১.৯ মিলিয়ন
যত্নে সহজ, শান্ত ও ঘরোয়া স্বভাবের কারণে দেশটিতে বিড়াল পোষার হার অত্যন্ত বেশি।
৯. ইতালি – ১০.২ মিলিয়ন
ইতালিতে অ্যাপার্টমেন্ট লাইফস্টাইলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার উপযোগী হওয়ায় বিড়াল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
১০. কানাডা – ৮.৫ মিলিয়ন
ঠান্ডা আবহাওয়া উপযোগী লম্বা লোমওয়ালা জাতের বিড়াল জনপ্রিয়। পারিবারিক সঙ্গী হিসেবেও বিড়ালের গুরুত্ব বেড়েছে।
১১. থাইল্যান্ড – ৮.০ মিলিয়ন
অ্যাপার্টমেন্টে সহজে রাখা যায় বলে তরুণ প্রজন্মের কাছে বিড়াল বেশি জনপ্রিয়।
১২. ইউক্রেন – ৭.৬ মিলিয়ন
গ্রামীণ ও শহুরে দুই পরিবেশেই বিড়াল সমানভাবে জনপ্রিয়, বিশেষ করে স্থানীয় জাতের।
১৩. পোল্যান্ড – ৭.৩ মিলিয়ন
পরিবারের সঙ্গী হিসেবে এবং কম খরচে পরিচর্যার জন্য পোল্যান্ডে বিড়াল পোষা সাধারণ।
১৪. জাপান – ৭.৩ মিলিয়ন
ছোট বাসস্থানের জন্য জাপানে বিড়াল পোষা অত্যন্ত সুবিধাজনক। ক্যাট ক্যাফে সংস্কৃতি এখানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয়।
১৫. স্পেন – ৫.৯ মিলিয়ন
শহুরে এলাকায় ফ্ল্যাট লাইফস্টাইলে বিড়াল সবচেয়ে উপযোগী সঙ্গী।
১৬. ইন্দোনেশিয়া – ৫.১ মিলিয়ন
ধর্মীয় ও সামাজিক কারণে দীর্ঘদিন বিড়ালই ছিল সবচেয়ে স্বীকৃত পোষা প্রাণী, ফলে সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
১৭. তুরস্ক – ৪.৭ মিলিয়ন
বিশ্বজুড়ে “ইস্তাম্বুলের রাস্তার বিড়াল” বিখ্যাত। মানুষ বিড়ালকে যত্ন করে লালন-পালন করে।
১৮. রোমানিয়া – ৪.৪ মিলিয়ন
রাস্তার বিড়াল দত্তক নেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
১৯. ভারত – ৪.০ মিলিয়ন
ব্যস্ত শহুরে জীবনে সহজ পরিচর্যার জন্য বিড়ালের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে।
২০. নেদারল্যান্ডস – ৩.০ মিলিয়ন
উন্নত প্রাণীকল্যাণ ব্যবস্থা এবং অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কৃতির কারণে বিড়াল জনপ্রিয়।
২১. আর্জেন্টিনা – ৩.০ মিলিয়ন
শহরে একা বসবাসকারীদের কাছে বিড়াল নীরব সঙ্গী হিসেবে জনপ্রিয়।
২২. বেলজিয়াম – ২.৫ মিলিয়ন
ছোট পরিবারের আদর্শ সঙ্গী হিসেবে বিড়ালের জনপ্রিয়তা রয়েছে।
২৩. হাঙ্গেরি – ২.৪ মিলিয়ন
গ্রামীণ অঞ্চলে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে বিড়ালের চাহিদা বেশি।
২৪. ফিলিপাইন – ২.৩ মিলিয়ন
পরিবারে শিশুদের মতো যত্ন করে বিড়াল লালন-পালনের সংস্কৃতি রয়েছে।
২৫. অস্ট্রিয়া – ২.২ মিলিয়ন
শান্ত স্বভাবের বিড়াল পারিবারিক সঙ্গী হিসেবে খুবই জনপ্রিয়।
বিশ্বে বিড়াল পোষার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে, বিশেষ করে শহুরে জীবনে সহজ পরিচর্যা, কম খরচ এবং মানসিক প্রশান্তির কারণে। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে শীর্ষে, সেখানে এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতেও বিড়াল পোষার সংস্কৃতি নতুন করে বিস্তার লাভ করছে। মানুষের জীবনধারা বদলাতে থাকায় বিড়াল এখন বিশ্বজুড়ে অন্যতম প্রিয় সঙ্গী প্রাণী।