ঢাকাশনিবার , ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন ক্রেডিট সুবিধা পাবে বাংলাদেশ

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৮ বিকাল

Link Copied!

ঢাকার আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে বাস্তবায়নাধীন দেশের প্রথম বড় আকারের বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে একদিকে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় টেকসই সমাধান তৈরি হবে, অন্যদিকে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমিয়ে কার্বন ক্রেডিটের মাধ্যমে বাংলাদেশ আর্থিক সুবিধা পেতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক তথ্যে এসব বিষয় জানানো হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগটি বেশ কয়েক বছর আগে শুরু হয়। ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে ইতোমধ্যে অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, পরিবেশ বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সম্মতিতে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

২০২৮ সালে প্রকল্পটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পকে শুধু ২৫ টাকা দরে বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত অর্থনৈতিক গুরুত্ব ধরা পড়বে না। এটি একই সঙ্গে ঢাকার বর্জ্য সংকট, ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা, জ্বালানি উৎপাদন এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কার্বন অর্থনীতির একটি পরীক্ষাগার।

আমিনবাজার ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনায় সিটি কর্পোরেশনের বার্ষিক খরচ হয় ৫২০ কোটি টাকা। চীন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করায় সিটি কর্পোরেশনকে এই টাকা খরচ করতে হবে না। পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৯০ কোটি টাকার কার্বন ক্রেডিট পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই প্রকল্পে চীনের সরাসরি বিনিয়োগ হচ্ছে ৬ হাজার কোটি টাকা। চীনের সিএমইসি গ্রুপের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অর্থায়নের সঙ্গে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, ডিবিএস, এনডিবি এবং ব্যাংক অব চায়না-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, সবাই দাম নিয়ে কথা বলছে, কিন্তু এখানে শেষ পর্যন্ত দাম দাঁড়াবে ১০ টাকার নিচে। সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশ কার্বন ক্রেডিট পাবে।

কার্বন ক্রেডিট পরিবেশ সুরক্ষার একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা ও সনদ। এর মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে এক মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো বা অপসারণের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিকভাবে একটি কার্বন ক্রেডিট মানে হলো এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমমানের গ্রিনহাউস গ্যাস বাতাসে মিশতে না দেওয়া। বাংলাদেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী এই ক্রেডিটের সুবিধাভোগী হবে।

সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে দেশের কার্বন ক্রেডিট বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, শিল্পখাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগ, জ্বালানি দক্ষতা উন্নয়ন, বন সংরক্ষণ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কার্বন শোষণ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, চীন সরাসরি উচ্চ তাপমাত্রায় বর্জ্য পোড়ানোর প্রযুক্তিতে নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি করেছে। চীনের উদ্ভাবিত ইনসিনারেটর গ্রেট ব্যবস্থা উচ্চ আর্দ্রতাসম্পন্ন বর্জ্যও উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়িয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে আরডিএফ (রিফিউজ-ডেরিভড ফুয়েল) এবং বায়োমেথানেশনের নিজস্ব মডেল তৈরিতেও জোর দেওয়া হয়েছে। সরাসরি পোড়ানোর পরিবর্তে বর্জ্য থেকে প্লাস্টিক ও কাগজ আলাদা করে ফুয়েল প্যালেট তৈরি অথবা পচনশীল বর্জ্য থেকে মিথেন গ্যাস তৈরির প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

পরিবেশবিদরা বলছেন, এই প্রকল্পে অর্থনৈতিক আরও একটি সুবিধা রয়েছে। ল্যান্ডফিলে জৈব বর্জ্য পচলে মিথেন তৈরি হয়। সেই জৈব বর্জ্য ল্যান্ডফিলে না পাঠিয়ে নিয়ন্ত্রিত ডাইজেস্টারে নিয়ে গেলে মিথেন ধরে সরাসরি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প তৈরি এবং ল্যান্ডফিল থেকে অনিয়ন্ত্রিত মিথেন নিঃসরণ কমানো সম্ভব।

এ কারণেই কার্বন অর্থনীতির সঙ্গে বায়োগ্যাস প্রকল্পের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা। প্রকল্পটি প্রচলিত ল্যান্ডফিল ব্যবস্থার তুলনায় কত টন কার্বন-সমতুল্য নির্গমন কমাচ্ছে, তা পরিমাপ, প্রতিবেদন ও স্বাধীনভাবে যাচাই করতে হবে। প্রতি টন যাচাইকৃত নির্গমন হ্রাসের বিপরীতে কার্বন ক্রেডিট তৈরি হতে পারে।

তবে কত টাকা পাওয়া যাবে, তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা যাবে না। ক্রেডিটের মান, বাজার, প্রকল্পের পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক নিয়মের ওপর এর মূল্য নির্ভর করবে।

জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, কার্বন ট্রেডিং নিয়ে সরকার ইতিবাচক চিন্তা করছে। আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে না, এর ফলে দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা তৈরি হবে।

তিনি বলেন, কাঁচা বর্জ্যে যে পরিমাণ দুর্গন্ধ ও দূষণ হয়, এসব থেকে শহর মুক্তি পাবে। এখানে কার্বন এবজর্ভ হয়ে মিথেনের ব্যবহারে পরিবেশ কম দূষিত হবে। আধুনিক সিটির মডেল হবে।

ড. আইনুন নিশাত আরও বলেন, এই প্রকল্পে চীন বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে আবার কার্বন ক্রেডিট ট্রেডিং চালু করবে। এটি খুবই আশাব্যঞ্জক। পরিবেশ মন্ত্রণালয় কার্বন ট্রেডিং নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে এসব কাজ এগোচ্ছে, তাই বোঝা যাচ্ছে সরকারের পরিকল্পনা সুদূরপ্রসারী। এখন এসব কাজ বাস্তবায়ন করা জরুরি।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য মোকাবিলায় ‘কাঠমান্ডু ঘোষণা’ গ্রহণ

২০৩৪ সালের মধ্যে জ্বালানি কাঠামো নিশ্চিত করা হবে: অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার নিচে পদ্মার পানি, প্লাবিত চরাঞ্চল

চার দফা কমার পর আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেড় হাজার কর্মী নিয়ে ডিএনসিসির বিশেষ অভিযান

মাধবপুরে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ১

আজ থেকে সারাদেশে তিন মাসের ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডিএনসিসিতে আজ থেকে বাড়ি বাড়ি ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

মতলবে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার নারী যাত্রী নিহত, আহত ৪

vivo V80 Lite Makes a Strong Market Debut with Attractive Offers

বাজারে এসেই নজর কাড়ছে ভিভো ভি৮০ লাইট