ঢাকারবিবার , ৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

যাত্রী কল্যাণ সমিতি

২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯১১১ জন নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ৪, ২০২৬ ১:৪২ অপরাহ্ণ । ২২৩ জন

২০২৫ সালে বাংলাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও আর্থিক ক্ষতির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। প্রতিবছরের মতো এবারও সড়ক দুর্ঘটনা ৯ হাজার ১১১ জন মানুষ নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮১২ জন এবং বছরে সরকারের অর্থনৈতিক ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। সংগঠনটি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দলকে সড়ক নিরাপত্তা ও উন্নত গণপরিবহনের বিষয়ে অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ এ তথ্য জানান সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

সংগঠনের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে সড়কে ৬৭২৯ টি দুর্ঘটনায় ৯১১১ জন নিহত ও ১৪৮১২ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা ৬.৯৪ শতাংশ, নিহত ৫.৭৯ শতাংশ এবং আহত ১৪.৮৭ শতাংশ বেড়েছে।

রেলপথে ৫১৩ টি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জন নিহত ও ১৪৫ জন আহত, নৌপথে ১২৭ টি দুর্ঘটনায় ১৫৮ জন নিহত, ১৩৯ জন আহত এবং ৩৮ জন নিখোঁজ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ২৪৯৩ টি, এতে ২৯৮৩ জন নিহত ও ২২১৯ জন আহত হয়েছে। এসব মোট দুর্ঘটনার ৩৭.০৪ শতাংশ, নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ এবং আহতের ১৪.৯৮ শতাংশ।

মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী, মহাসচিব, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলেন, “প্রাণহানী ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে সড়ক নিরাপত্তা এবং উন্নত গণপরিবহন বিষয়ে অঙ্গীকার রাখা জরুরি।”

দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

চালক: ১৫৫৭ জন নিহত, পথচারী: ১১৪৬ জন, শিশু: ৫৪৬ জন, নারী: ৪১৫ জন, শিক্ষার্থী: ৬৩৩ জন, শিক্ষক: ১২২ জন, সাংবাদিক: ১৪ জন, চিকিৎসক: ১৪ জন, আইনজীবী: ৫ জন, বীর মুক্তিযোদ্ধা: ১০ জন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী: ১০৩ জন

দুর্ঘটনার ধরন ও কারণ

গাড়ি চাপা: ৪৮.৮৪%, মুখোমুখি সংঘর্ষ: ২৬.০০%, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে: ১৮.৬৩%, বিবিধ: ৫.৩৭%, যানবাহনের চাকায় ওড়না পেঁছানো: ০.৪৪%, ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ: ০.৬৮%

সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বেপরোয়া গতি, বিপদজনক অভারটেকিং, সড়কের নির্মাণ ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, চালক ও পথচারীর অসতর্কতা, ট্রাফিক আইন অমান্য, মাদক সেবন ও অরক্ষিত রেলক্রসিং।

সুপারিশমালা

১. নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবহনখাত সংস্কার, সড়ক নিরাপত্তা ও উন্নত গণপরিবহন অন্তর্ভুক্ত করা।

২. প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার সংসদ প্রার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা ও যাতায়াত সুবিধা অঙ্গীকারে রাখা।

৩. সড়ক নিরাপত্তায় বাজেট বৃদ্ধি ও সড়ক নিরাপত্তা উইং চালু করা।

৪. দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সরকারি ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা।

৫. ড্রাইভিং লাইসেন্সে ৬০ ঘন্টার ইনক্লুসিভ প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা।

৬. পরিবহন সেক্টরে সুশাসন, অনিয়ম-দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা।

৭. উন্নত বিশ্বের কারিকুলাম অনুযায়ী গাড়ি নিবন্ধন, ফিটনেস ও লাইসেন্স প্রদান।

৮. নগরীতে ইলেকট্রিক এসি বাসের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।

৯. ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর করা।

১০. আলাদা লেইন তৈরি করে বৈধ ও অবৈধ যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ।

১১. জাতীয় মহাসড়কে ছোট যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস লেইন তৈরি।

১২. সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুক্তভোগী যাত্রীদের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা।

মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “ক্ষমতার পালাবদল হলেও সড়কের নীতি পরিবর্তন না হওয়ায় দুর্ঘটনা ও যাতায়াতের ভোগান্তি বাড়ছে। অন্তবর্তী সরকার সড়ক পরিবহন খাত সংস্কার না করায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, সড়ক নিরাপত্তা ও ভাড়া নৈরাজ্য থেকে মুক্তি পায়নি।”