
বিশ্বে শিশুজন্মের হার এখনো অত্যন্ত উচ্চ। প্রতি ঘন্টায় হাজার হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে, যা বিভিন্ন দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে প্রতি ঘন্টায় প্রায় ৪০০ শিশু জন্ম নিচ্ছে, যা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে।
দক্ষিণ এশিয়া ও এশিয়ার দেশগুলো:
ভারতে প্রতি ঘন্টায় ২,৬৫১ শিশু জন্ম নিচ্ছে। এ হারে ভারতের স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম চাপ তৈরি হচ্ছে। এছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নগরায়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়ছে। চীনে প্রতি ঘন্টায় ১,০১৬ শিশু জন্ম নিচ্ছে। চীনের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও জনসংখ্যার উচ্চতা দীর্ঘমেয়াদে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
পাকিস্তানে প্রতি ঘন্টায় ৭৮৬ শিশু জন্ম নিচ্ছে। এখানে জন্মের হার পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বাড়াচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ায় প্রতি ঘন্টায় ৫১২ শিশু জন্ম। শিশু জন্মের এই উচ্চ হার স্বাস্থ্যসেবা ও শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
আফ্রিকার দেশগুলো:
নাইজেরিয়ায় প্রতি ঘন্টায় ৮৫৭ শিশু জন্ম, যা স্বাস্থ্যসেবা সীমিততার কারণে শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধি করছে। ডিআর কঙ্গোতে প্রতি ঘন্টায় ৪৯৯ শিশু জন্ম, এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। ইথিওপিয়ায় প্রতি ঘন্টায় ৪৬৯ শিশু জন্ম, যা পুষ্টি ও শিক্ষা খাতেও প্রভাব ফেলছে।
তানজানিয়ায় প্রতি ঘন্টায় ২৬৮ শিশু জন্ম, মাদাগাস্কারে প্রায় ২৫০, কেনিয়ায় ২৪০, অ্যাঙ্গোলায় ২৩৫, সোমালিয়া ২২৫ এবং উগান্ডায় ২২৭ শিশু জন্ম প্রতি ঘন্টায় হচ্ছে। আফ্রিকার এই দেশগুলোর উচ্চ জন্মহার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে।
উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা ও অন্যান্য দেশ:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ঘন্টায় ৪১৮ শিশু জন্ম। যদিও দেশটির স্বাস্থ্যসেবা তুলনামূলকভাবে ভালো, তবে শিক্ষাব্যবস্থা এবং সামাজিক ব্যবস্থায় চাপ রয়েছে। ব্রাজিলে প্রতি ঘন্টায় ২৯৭ শিশু জন্ম, মেক্সিকোতে ২৩৫ শিশু জন্ম, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নগর ও গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় চাপ সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশ:
বাংলাদেশে প্রতি ঘন্টায় প্রায় ৪০০ শিশু জন্ম। দেশটির স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এটি যথেষ্ট চাপ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিবার পরিকল্পনা, জনসচেতনতা এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
শিশুজন্মের উচ্চ হার শুধুমাত্র জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ নয়, বরং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। দেশগুলোকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে, যাতে শিশু ও মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে এবং সামাজিক ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো যায়।