
নারী ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের দাবি জানিয়েছেন তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ)-এর নেত্রীবৃন্দ।
রাজধানীর মিরপুরে ইউসেপ কার্যালয়ে উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা প্রতিষ্ঠান (উবিনীগ)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মশালায় এই দাবি উত্থাপন করা হয়। কর্মশালায় দেশের ৮টি বিভাগের ২৩টি জেলা থেকে ৩০ জন তাবিনাজ সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন উবিনীগ-এর পরিচালক সীমা দাস সীমু। তিনি বলেন, দেশে বিদ্যমান তামাক কর ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল হওয়ায় তা তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। একইসঙ্গে এটি কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায়েও ব্যর্থ হচ্ছে।
উবিনীগ-এর প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর হাসানুল হাসিব আল গালিব তামাকবিরোধী অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ৩৫.৩ শতাংশ। তিনি তামাকের ব্যবহার কমাতে সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে একক করারোপের মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন।
কর্মশালায় ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত তামাক কর কাঠামো উপস্থাপন করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আতাউর রহমান মাসুদ। তিনি জানান, কার্যকরভাবে কর বৃদ্ধি করা হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে। এর ফলে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জন সম্ভব, যা জনস্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা যেতে পারে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাবিনাজ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফরিদা আখতার বলেন, দেশের দরিদ্র নারীদের একটি বড় অংশ ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করেন, যা মুখগহ্বরের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তিনি প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৬০ টাকা এবং গুলের মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি উভয় ক্ষেত্রে ২ টাকা সুনির্দিষ্ট করারোপের প্রস্তাব দেন।
আলোচনায় জানানো হয়, দেশে তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এই খাত থেকে প্রাপ্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি।
তাবিনাজ-এর নারী নেত্রীরা তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে ১০ শলাকার প্যাকেটের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব করেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, কার্যকর তামাক কর আরোপের মাধ্যমে একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব, অন্যদিকে তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।