দক্ষিণ স্পেনে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। আহতদের মধ্যে অন্তত ৩০ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রেল পরিচালনাকারী সংস্থা এডিআইএফ জানায়, রোববার (স্থানীয় সময়) সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে কর্দোবার কাছে মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী একটি দ্রুতগতির ট্রেনের পেছনের অংশ হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়ে পাশের লাইনে ছিটকে পড়ে। ওই ট্রেনটিতে প্রায় ৩০০ যাত্রী ছিলেন। লাইনচ্যুত হওয়ার পর বিপরীত দিক থেকে আসা মাদ্রিদ-হুয়েলভাগামী আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ হয়। দ্বিতীয় ট্রেনটিতে ছিলেন প্রায় ২০০ যাত্রী।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় দুই ট্রেনের অন্তত ২১ যাত্রী নিহত হন এবং শতাধিক যাত্রী আহত হন। স্পেনের সরকারি টেলিভিশন এস্পানিওলের খবরে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে মাদ্রিদ থেকে হুয়েলভাগামী ট্রেনটির চালকও রয়েছেন।
স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে জানান, আহতদের মধ্যে ৩০ জনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাদ্রিদের আতোচা স্টেশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। সোজা রেলপথে এ ধরনের দুর্ঘটনা ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট রেলপথটি গত মে মাসে সংস্কার করা হয়েছিল।
আন্দালুসিয়া অঞ্চলের জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, দুর্ঘটনাস্থলে পাঁচটি আইসিইউ, চারটি জরুরি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট এবং একাধিক অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়। আহতদের ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট হুয়ানমা মোরেনো সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, ‘হতাহত সবার প্রতি আমাদের গভীর সংহতি রয়েছে।’ এডিআইএফের কর্মীরাও উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমে জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন বলে জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর আন্দালুসিয়া অঞ্চল থেকে মাদ্রিদগামী ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্দোবা, সেভিয়া, মালাগা ও হুয়েলভা থেকে ট্রেন চলাচল অন্তত সোমবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ একে দেশের জন্য ‘গভীর বেদনার রাত’ বলে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিইর সাংবাদিক সালভাদোর হিমেনেজ জানান, তিনি মালাগা থেকে আসা ট্রেনটিতেই ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেনটির শেষ দুটি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং শেষ বগিটি সম্পূর্ণ কাত হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার ঠিক আগে ট্রেনটি ভূমিকম্পের মতো কাঁপছিল বলেও জানান তিনি।


