ঢাকাসোমবার , ২০ এপ্রিল ২০২৬

টিকা না দেওয়ায় হামে আক্রান্ত বেড়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ । ১৮ জন

শিশুদের নিয়মিত টিকা না দেওয়ার কারণেই দেশে হামের সংক্রমণ বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। একই দিন থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে এই টিকাদান কর্মসূচি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার কারণে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে যথাযথ বিনিয়োগ না হওয়ায় এই সংকট আরও প্রকট হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, রূপগঞ্জের ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

শিশুদের পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মায়েরা সন্তানদের বুকের দুধ না খাওয়ানোর কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, যা হামের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে এখনও মহামারি হিসেবে দেখার মতো নয় বলে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখনই জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন হয়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এ নিয়ে তৃতীয় দফায় দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলো। আগামী চার সপ্তাহ (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া) প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় টিকা দেওয়া হবে।

এর আগে ৫ এপ্রিল প্রথম ধাপে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। ওই কর্মসূচির আওতায় ২১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ৫ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ১৪ লাখ ৮৭ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, দেশে টিকার কোনো ঘাটতি নেই এবং জুন মাস পর্যন্ত পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে।

ইপিআই সূত্রে জানা গেছে, আগে টিকা নেওয়া থাকলেও ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকেই এই ক্যাম্পেইনে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হচ্ছে। টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে স্কুল, মাদরাসা, এতিমখানা, আশ্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া যারা স্কুলে যায় না, তারা নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারবে।

ক্যাম্পেইন চলাকালে প্রতিটি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের হাসপাতাল এবং ওয়ার্ডভিত্তিক স্থায়ী কেন্দ্রগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার শিশুদের জন্য অতিরিক্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে সুবিধামতো সময়ে টিকা দেওয়া হবে।