ঢাকামঙ্গলবার , ৪ অগাস্ট ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জনস্বাস্থ্য

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন যুগোপযোগীকরণ জরুরি

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৫ সকাল

Link Copied!

বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের নিম্নহার নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন ব্যবস্থাপনাকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। বিদ্যমান জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন আইন সংস্কার করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা অন্যতম জরুরি নীতি উদ্যোগ। রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন- বিএমএ ভবনে অনুষ্ঠিত “বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এসব মতামত তুলে ধরেন বক্তরা। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এই কর্মশালার আয়োজন করে। ০৩ ও ০৪ মার্চ অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত ৩২জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

বর্তমানে দেশে জন্ম নিবন্ধনের হার মাত্র ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতিদিন হাজারো মানুষ জন্ম গ্রহণ ও মৃত্যুবরণ করলেও তাদের প্রায় অর্ধেকই রাষ্ট্রীয় নথিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ কার্যত রাষ্ট্রের হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নাগরিকের আইনি পরিচয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উত্তরাধিকার, সামাজিক সুরক্ষা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। নিবন্ধনবিহীন নাগরিকরা বাস্তবে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অদৃশ্য হয়ে পড়েন, যা শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, মানবপাচার ও বৈষম্যের ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে, নির্ভরযোগ্য জন্ম ও মৃত্যুর তথ্যের অভাবে কার্যকর উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতি প্রণয়ন ব্যাহত হয়।

বিদ্যমান আইনে নিবন্ধনের দায়িত্ব প্রধানত পরিবারের ওপর, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর উপর এই দায়িত্ব বাধ্যতামূলক করা হয়নি। অথচ, বর্তমানে দেশে প্রায় দুই তৃতীয়াংশ শিশুর জন্ম স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হয়ে থাকে। স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধন ব্যবস্থা না থাকায় অনেক জন্মই নিবন্ধনের বাইরে থেকে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার মালদ্বীপ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা স্বাস্থ্যকেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে প্রায় শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশেও একই ধরনের সংস্কার জরুরি।

ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অর্জনে বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী করার পাসাপাশি আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।”

জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিবন্ধনের দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে জাতিসংঘের আঞ্চলিক সংস্থা ইউএনএসকাপ-এর শতভাগ নিবন্ধন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি এসডিজি ১৬.৯, সবার জন্য বৈধ পরিচয়পত্র, অর্জন সম্ভব হবে।”

দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান বলেন, “জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন সংস্কার যাতে জাতীয় অগ্রাধিকার পায়, সেজন্য নিবন্ধনের বহুমুখী প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ তৈরি করতে হবে।”

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। কর্মশালায় গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞা’র কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার এবং কোঅর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

৫ আগস্ট বান্দরবানের ৪ পর্যটনকেন্দ্রে ফ্রি প্রবেশ

তীব্র গরমে ইংল্যান্ডে দুই মাসে প্রায় তিন হাজার মৃত্যু

পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নদীই এশিয়ার খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তরের চাবিকাঠি: এডিবি

সন্ধ্যার মধ্যে ৬ অঞ্চলে ঝড়ের আশঙ্কা

realme Bringing Next C-Series Smartphone to Provide All-Day Power

সারাদিন নিরবচ্ছিন্ন পাওয়ার নিশ্চিতে নতুন সি-সিরিজ স্মার্টফোন নিয়ে আসছে রিয়েলমি

Australia provides another $25.25 million in aid for Rohingya

রোহিঙ্গাদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার আরও ২৫.২৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা

দেশজুড়ে আরও কয়েকদিন বৃষ্টি, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

দেশ-বিদেশে চাহিদা বাড়ায় পাট চাষে ফিরছে কৃষকের আস্থা

মোবাইল ছেড়ে মাঠে, কৃষি শিখছে টাঙ্গাইলের কলেজ শিক্ষার্থীরা

এক মাস দুই দিনে দেশে এলো ৩.১৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স