
পৃথিবীর দেশে দেশে জন্মহার কমার চিত্র (১৯৫০-২০২১)
ওয়াল্ড অব স্ট্যাটিসটিকস প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, দিন দিন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জন্মহার কমছে।
যেভাবে জন্ম হার কমছে, তার ফলে এই শতাব্দীর শেষে বিশ্বের প্রায় সব দেশের জনসংখ্যা কমে যাবে। এর মধ্যে জাপান এবং স্পেনসহ ২৩টি দেশের জনসংখ্যা ২১০০ সাল নাগাদ একেবারে অর্ধেক হয়ে যাবে। এই তালিকায় আরো আছে স্পেন, পর্তুগাল, থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ।
এর পাশাপাশি সব দেশেই জনসংখ্যার অনুপাতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা অনেকগুন বেড়ে যাবে। যত নতুন শিশু জন্ম নেবে, ৮০ বছর বা তদুর্ধ মানুষের সংখ্যাও হবে প্রায় তার সমান।
জাপানের জনসংখ্যা ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সে-বছর দেশটির জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৮০ লাখ। এরপর থেকে কমতে শুরু করে জাপানের জনসংখ্যা। এই শতাব্দীর শেষে এসে জাপানের জনসংখ্যা কমে দাঁড়াবে ৫ কোটি ৩০ লাখের নিচে।
ইতালির জনসংখ্যায়ও এরকম নাটকীয় ধস নামবে। ৬ কোটি ১০ লাখ থেকে তাদের জনসংখ্যা এই শতাব্দীর শেষে কমে দাঁড়াবে ২ কোটি ৮০ লাখে। অর্থাৎ অর্ধেকেরও কম।
গবেষকদের আশঙ্কা :
পৃথিবীর দেশে দেশে জন্মহার কমার চিত্র (১৯৫০-২০২১)
দক্ষিণ কোরিয়া : ৮৬%
চীন : ৮১%
থাইল্যান্ড : ৭৯%
জাপান : ৭৭%
ইরান : ৭৩%
ব্রাজিল : ৭২%
কলম্বিয়া : ৭০%
মেক্সিকো : ৭০%
পোল্যান্ড : ৬৯%
তুরস্ক : ৬৮%
রাশিয়া : ৬৭%
সৌদি আরব : ৬৭%
মালয়েশিয়া : ৬৬%
ইউক্রেন : ৬৬%
মরক্কো : ৬৬%
ইতালি : ৬৫%
কানাডা : ৬৩%
ভারত : ৬৩%
পেরু : ৬৩%
বাংলাদেশ : ৬২%
মিয়ানমার : ৬২%
স্পেন : ৬২%
ভিয়েতনাম : ৬১%
ইন্দোনেশিয়া : ৬০%
আলজেরিয়া : ৫৮%
মিসর : ৫৮%
নেপাল : ৫৭%
ফিলিপাইন : ৫৬
দক্ষিণ আফ্রিকা : ৫২%
যুক্তরাষ্ট্র : ৫২%
ফ্রান্স : ৪৯%
আর্জেন্টিনা : ৪৭%
কেনিয়া : ৪৪%
জার্মানি : ৪৩%
ইয়েমেন : ৪২%
ঘানা : ৪১%
উজবেকিস্তান : ৪১%
ইরাক : ৪০%
যুক্তরাজ্য : ৩৯%
পাকিস্তান : ৩৭%
নাইজেরিয়া : ১৯%
কঙ্গো : ৯%
বাংলাদেশে জন্মহার কমার চিত্র :
১৯৯১ সালে বাংলাদেশের জন্মহার ছিল দুই দশমিক ১৭ শতাংশ (২.১৭), যেটি ২০০১ সালে নেমে আসে এক দশমিক ৫৮ শতাংশে (১.৫৮)। এরপর ২০১১ সালে আদমশুমারির প্রতিবেদনে দেখা যায় জন্ম হার আরো কমে এক দশমিক ৪৬ শতাংশ (১.৪৬) হয়েছে। সর্বশেষ ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী এই হার এক দশমিক ২২ শতাংশ (১.২২)।