বৃষ্টির মতো কুয়াশা এবং কনকনে ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যমুনাপাড়ের জেলা সিরাজগঞ্জ। রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে জেলার রাস্তা ঘাটের চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে এবং তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শীতের তীব্রতায় জেলা জুড়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে খেটে-খাওয়া দিনমজুর ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন। শীত নিবারণের জন্য বিভিন্ন স্থানে মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন।
রিকশাচালক সয়াধানগড়ার সুজাবত আলী বলেন, “বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে। একারণে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। রাস্তায় তেমন কোনো মানুষ দেখা যাচ্ছে না। সংসার চালাতে ঠান্ডার মধ্যেই রিকশা নিয়ে বের হতে হচ্ছে। প্রশাসন থেকে শীতবস্ত্র পাইনি।”
ইট ভাটার নারী শ্রমিক ছকিনা বেওয়া (৬৫) বলেন, “কুয়াশার সঙ্গে প্রচণ্ড ঠান্ডা। এই শীতে ইটের সাজিয়ে রাখার কাজ করতে হচ্ছে। শরীর জমে যাচ্ছে, তবুও কাজ না করলে খাবার জুটবে না।”
বাঘাবাড়ী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল জানান, জেলাজুড়ে বৃষ্টির মতো কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়াও বইছে। এজন্য শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকতে পারে। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় আর্দ্রতার কারণে শীতের প্রকোপ আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আকিকুন নাহার জানান, টানা কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, জ্বরসহ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তিনি শিশু ও বৃদ্ধদের শীতে সতর্ক থাকার পাশাপাশি পরিচর্যার পরামর্শ দিয়েছেন।


