
ভারতে বিরিয়ানি ও তরমুজ খাওয়ার পর একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় খাদ্যে বিষক্রিয়াকে প্রাথমিক কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনার পর তরমুজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বিরিয়ানি খাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে রাখা কাটা তরমুজ খান। এরপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র শারীরিক অসুস্থতা শুরু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে—সাধারণ ও জনপ্রিয় ফল তরমুজ কি সত্যিই এমন বিপজ্জনক হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজ স্বাভাবিকভাবে ক্ষতিকর নয় এবং এটি পানিসমৃদ্ধ ও পুষ্টিকর একটি ফল। তবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে এটি সহজেই দূষিত হতে পারে।
দূষণের ঝুঁকি কোথায়?
পুষ্টিবিদরা বলছেন, কাটা তরমুজ দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় থাকলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাটা, অপরিষ্কার ছুরি বা বোর্ড ব্যবহারও দূষণের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষ করে সালমোনেলা, লিস্টেরিয়া ও ই. কোলাইয়ের মতো ব্যাকটেরিয়া তরমুজে সংক্রমণ ঘটালে তীব্র ডায়রিয়া, বমি, পেটব্যথা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা বা সেপসিসের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
মৃত্যু কি সম্ভব?
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজ খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তবে যদি ফলটি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়, তাহলে খাদ্য বিষক্রিয়া থেকে গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতা এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে—বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।
কৃত্রিমভাবে মিষ্টতা বাড়ানোর ঝুঁকি
কিছু ক্ষেত্রে অসাধু ব্যবসায়ীরা তরমুজে কৃত্রিমভাবে গ্লুকোজ বা চিনির পানি ইনজেক্ট করার অভিযোগও রয়েছে। অস্বাস্থ্যকরভাবে এ ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
নিরাপদে তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন— তরমুজ কাটার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া, পরিষ্কার ছুরি ও কাটিং বোর্ড ব্যবহার করা, কাটা তরমুজ দীর্ঘ সময় খোলা না রাখা, ফ্রিজে সংরক্ষণ করা, অস্বাভাবিক গন্ধ বা স্বাদ থাকলে না খাওয়া, রাস্তার খোলা জায়গায় কাটা তরমুজ না খাওয়াই ভালো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজ একটি স্বাস্থ্যকর ফল হলেও সঠিক পরিচ্ছন্নতা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত না করলে এটি খাদ্য বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।