
আমাদের আধুনিক জীবনযাত্রা এখন খাবারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফাস্টফুড, সফট ড্রিংক, চকলেট কিংবা নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার আজ আমাদের নিত্যসঙ্গী। এগুলো খেতে যেমন সুস্বাদু, শরীরে জমা হয় তেমনি বিপুল পরিমাণ ক্যালোরি। আর সেই ক্যালোরি পোড়াতে হয় দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে। হাঁটা হলো সবচেয়ে সহজ ব্যায়াম, যার মাধ্যমে খাওয়া খাবারের বাড়তি ক্যালোরি খরচ করা যায়। কিন্তু কোন খাবার খাওয়ার পর কত ঘণ্টা হাঁটতে হবে সে হিসাব অনেকেরই অজানা।
বার্গার

একটি বড় আকারের বার্গারে থাকে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ ক্যালোরি। ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার গতিতে হাঁটলে শরীর প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৩০০ থেকে ৩২০ ক্যালোরি খরচ করে। অর্থাৎ একটি বার্গারের ক্যালোরি পোড়াতে হাঁটতে হবে অন্তত ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা। নিয়মিত বার্গার খাওয়ার সঙ্গে হাঁটা বা ব্যায়াম না থাকলে শরীরে দ্রুত চর্বি জমে যায়।
স্যান্ডউইচ

চিকেন স্যান্ডউইচকে অনেকে হালকা খাবার মনে করেন। বাস্তবে একটি চিকেন স্যান্ডউইচে প্রায় ৪৫০ ক্যালোরি থাকে। এই ক্যালোরি খরচ করতে দরকার দেড় ঘণ্টা হাঁটা। চিকেন, চিজ, মেওনেজ ইত্যাদি উপাদানের কারণে স্যান্ডউইচও শক্তিশালী ক্যালোরির উৎস।
পিজা

এক টুকরো পিজাতে থাকে প্রায় ৩০০ ক্যালোরি। কেউ যদি একসঙ্গে তিন টুকরো খেয়ে ফেলেন, তবে শরীরে জমে যায় প্রায় ৯০০ ক্যালোরি। এটি পোড়াতে হাঁটতে হবে আড়াই থেকে ৩ ঘণ্টা। অথচ আড্ডায় বসে আমরা অনায়াসেই কয়েক মিনিটে পুরো একটি পিজা শেষ করে ফেলি।
ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস

এক কাপ ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসে থাকে প্রায় ৩৫০ ক্যালোরি। এই ক্যালোরি খরচে হাঁটতে হয় প্রায় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। কিন্তু রেস্টুরেন্টে সাধারণত তিন কাপ সমান ফ্রাইস দেওয়া হয়। পুরোটা খেলে জমে প্রায় হাজার ক্যালোরি, যা পোড়াতে দরকার তিন ঘণ্টারও বেশি হাঁটা।
ঠান্ডা পানীয়

একটি ৩৫০ মিলিলিটার ক্যান সফট ড্রিংকে থাকে প্রায় ১৪০ ক্যালোরি। কয়েক মিনিটেই পান করা এই পানীয়র ক্যালোরি খরচে হাঁটতে হয় আধা ঘণ্টা। আর যদি টানা ২–৩ ক্যান পান করা হয়, তবে সেই ক্যালোরি পোড়াতে দরকার দেড় ঘণ্টা হাঁটা।
চকলেট বার

একটি ছোট চকলেট বারে থাকে প্রায় ২৫০ ক্যালোরি। এটি পোড়াতে হাঁটতে হয় প্রায় ৫০ মিনিট। অর্থাৎ কয়েক মিনিটে খাওয়া এই খাবারের জন্য শরীরকে পরিশ্রম করতে হয় প্রায় এক ঘণ্টা।
মিষ্টান্ন

এক কাপ আইসক্রিমে থাকে প্রায় ২৭০ ক্যালোরি। এটি খরচে হাঁটতে হয় এক ঘণ্টা। কেক, পেস্ট্রি বা মিষ্টির প্রতিটি টুকরোতেই থাকে ২০০ থেকে ৩০০ ক্যালোরি। একসঙ্গে কয়েকটি মিষ্টান্ন খেলে শরীরে জমতে পারে হাজার ক্যালোরি, যা পোড়াতে হাঁটতে হয় ৪–৫ ঘণ্টা।
সালাদ

অনেকে সালাদ বা গ্রিন স্মুদিকে ক্যালোরি কম ভাবেন। কিন্তু এক গ্লাস গ্রিন স্মুদিতে থাকতে পারে ৩০০ ক্যালোরি, যা পোড়াতে দরকার এক ঘণ্টা হাঁটা। সিজার সালাদে মেওনেজ, চিজ ও ক্রুটন থাকায় ক্যালোরি বেড়ে যায় ৪০০ পর্যন্ত, যা পোড়াতে দরকার অন্তত ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট হাঁটা।
খাবারের সঙ্গে হাঁটার হিসাব আমাদের জীবনযাপনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু স্বাদ বা ক্ষুধা মেটাতে খাওয়া হলে এবং সেই ক্যালোরি খরচের শারীরিক পরিশ্রম না করলে শরীরে দ্রুত চর্বি জমে যায়। নিয়মিত হাঁটা শুধু বাড়তি ক্যালোরি পোড়ায় না, বরং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায় এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
তাই প্রতিটি খাবার খাওয়ার আগে ভাবা উচিত এটি খাওয়ার পর শরীরকে কতটা হাঁটতে হবে। হিসাব জানা থাকলে আমরা হয়তো খাবারের পরিমাণ কমাবো কিংবা হাঁটার অভ্যাস বাড়াবো দুই ক্ষেত্রেই লাভ আমাদের শরীরের।