
একটি তাজা ভোর। সূর্যের প্রথম আলো ফুটে উঠছে, আর এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফির সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ তাদের দিন শুরু করে এই কফির কাপ দিয়েই। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই ছোট্ট এক কাপ কফির পেছনে লুকিয়ে আছে এক বিশাল বৈশ্বিক শিল্প? ২০২৪ সালে কফি উৎপাদনের চিত্র এক নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে কিছু দেশ রাজত্ব করছে এই সুগন্ধী শস্যের বাজারে।
যদি কফি উৎপাদনের রাজা খোঁজা হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে ব্রাজিল। ২০২৪ সালে বৈশ্বিক কফি উৎপাদনের ৩৮% এসেছে শুধুমাত্র এই দেশ থেকে। দক্ষিণ আমেরিকার উর্বর ভূমি ও অনুকূল আবহাওয়া ব্রাজিলকে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কফি উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ধরে রেখেছে।
ব্রাজিলের পরেই আছে ভিয়েতনাম, যার অবদান ১৭%। যদিও লাতিন আমেরিকা কফি শিল্পে ঐতিহ্যগতভাবে এগিয়ে, কিন্তু এশিয়ার দেশগুলোর মধ্য থেকে ভিয়েতনাম নিজেকে কফি উৎপাদনে অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশেষ করে রোবাস্টা জাতের কফি উৎপাদনে দেশটি বিশ্বে অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী।
কফি উৎপাদনের তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে কলম্বিয়া (৭%), যার সুগন্ধযুক্ত অ্যারাবিকা কফি বিশ্ববাজারে বেশ জনপ্রিয়। এরপর ইন্দোনেশিয়া (৬%) এবং ইথিওপিয়া (৫%) যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ইথিওপিয়া কফির আদি নিবাস হিসেবে পরিচিত, এবং এখানকার উৎপাদিত কফির স্বাদ একেবারেই অনন্য।
এছাড়া, উগান্ডা (৪%), ভারত (৪%), পেরু (৩%), হন্ডুরাস (৩%) এবং মেক্সিকো (২%) উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কফি উৎপাদন করে বৈশ্বিক বাজারে অবদান রাখছে।
২০২৪ সালে বিশ্বে কফি উৎপাদন ৪% বৃদ্ধি পেয়ে ১০.৫ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। তবে চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মূল্যও দ্বিগুণ হয়েছে বছরের শুরু থেকেই। জলবায়ু পরিবর্তন, চাষাবাদের ব্যয় বৃদ্ধি, এবং সরবরাহ চেইনে জটিলতার কারণে কফির বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে কফির জনপ্রিয়তা যেমন বাড়ছে, তেমনই পরিবর্তন আসছে উৎপাদন এবং রপ্তানি নীতিতেও। টেকসই চাষাবাদ এবং ন্যায্য বাণিজ্যনীতি নিশ্চিত করা গেলে, ভবিষ্যতে কফি শিল্প আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর যতদিন মানুষ সকালে এক কাপ কফি হাতে নিয়ে দিন শুরু করবে, ততদিন এই সুগন্ধী শস্যের প্রতি ভালোবাসা অমলিন থাকবে।