
দেশের শিশুদের টাইফয়েড জ্বরের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আগামী ১ আগস্ট থেকে নিয়মিত টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় ১৫ মাস বয়সী সব শিশুকে এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) দেওয়া হবে।
সোমবার (১৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, ২০২৫ সালে জাতীয় টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের পর জাতীয় টিকাদান কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে এই টিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ইপিআইয়ের স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে ১৫ মাস বয়সী সব শিশুকে এক ডোজ টিসিভি দেওয়া হবে। একই সেশনে এমআর-২ টিকার সঙ্গে এই টিকা একযোগে দেওয়া যাবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত শিশু শনাক্ত, টিকার চাহিদা নির্ধারণ এবং নির্ধারিত সেশনে টিকাদান নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের ভ্যাক্স: ইপিআই অ্যাপে নিবন্ধন, টিকা কার্ড ডাউনলোড এবং স্মার্ট হেলথ বিডি/ই-ট্র্যাকার অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য হালনাগাদের ওপর গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নিয়মিত কর্মসূচিতে ৫ ডোজের ভায়াল ব্যবহার করা হবে এবং ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও পরিবহন নিশ্চিত করতে হবে। মাল্টিডোজ ভায়াল নীতিমালা অনুসরণ করে নির্ধারিত শর্তে খোলা ভায়াল পরবর্তী সেশনেও ব্যবহার করা যাবে।
এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, ধর্মীয় ও কমিউনিটি নেতাদের সম্পৃক্ত করে বাড়ি বাড়ি প্রচার, মাইকিং, উঠান বৈঠক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশের শিশুদের টাইফয়েড জ্বর থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।