ঢাকারবিবার , ১৯ জুলাই ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জনস্বাস্থ্য

১০৪ শিশুর পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ উচ্চ আদালতের

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
১৫ নভেম্বর ২০২৩, ৪:৫৪ বিকাল

Link Copied!

ভেজাল ওষুধে গণ-মৃত্যুর দুটি ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে। একটি ১৯৯১ সালে, অপরটি ২০০৯ সালে।  ভেজাল ওষুধে ১০৪ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রত্যেক পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে মোট ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ এ রায় প্রকাশ করেছেন। রায়ে একটি স্বাধীন জাতীয় ভেজাল ওষুধ প্রতিরোধ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাইকোর্টের ৮ নির্দেশনা

রায়ে আটটি নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।  সেগুলো হলো—

১. প্রত্যেক ব্যক্তির বিনামূল্যে সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া তার সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার। এ অধিকারকে তার বেঁচে থাকার অধিকারের অন্তর্ভুক্ত ঘোষণা;

২. ওষুধে ভেজাল মেশানো বন্ধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (সি) মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে প্রতিপক্ষদের নির্দেশ প্রদান;

৩. ১৯৯১ সালে ৭৬ জন এবং ২০০৯ সালে ২৮ জন শিশুর মৃত্যুতে ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষের দায়;

৪. ১৯৯১ সালের ৭৬ জন এবং ২০০৯ সালের ২৮ জন শিশুর প্রত্যেক পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা হারে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ। ওই ক্ষতিপূরণের টাকা ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তি ও ওষুধ কোম্পানি থেকে আদায় করতে পারবেন। ১০৪ শিশুর পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ;

৫. নকল ও ভেজাল ওষুধের প্রভাব ও প্রতিকারে একটি স্বাধীন জাতীয় ভেজাল ওষুধ প্রতিরোধ কমিটি গঠনের নির্দেশ;

৬. দরখাস্তকারী কর্তৃক ২০২২ সালের ২ জুন দাখিল করা সম্পূরক হলফনামায় বর্ণিত পরামর্শগুলো বিবেচনার জন্য প্রতিপক্ষদের নির্দেশ প্রদান;

৭. ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশ গেজেটে অতিরিক্ত প্রকাশিত জাতীয় ওষুধ নীতি-২০১৬ দ্রুত বাস্তবায়নের পরামর্শ প্রদান;

৮. যুক্তরাজ্যের আদলে বাংলাদেশের জনগণের চিকিৎসা সেবা অবকাঠামো তৈরির পরামর্শ।

এই রায়ের অনুলিপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে পাঠানোর জন্য রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালের ২ জুন ভেজাল প্যারাসিটামল সেবনে ১০৪ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার প্রতি ১৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।

ওই সময় রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেছিলেন, ১৯৯১ সালে ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ সেবন করে ৭৬ শিশু এবং ২০০৯ সালে রিড ফার্মার প্যারাসিটামল সেবন করে ২৮ শিশু মৃত্যুবরণ করে। এ ঘটনায় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে ২০১০ সালে পরিবেশ ও মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে জনস্বার্থে প্রতিকার চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়। একই বছর শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওষুধ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও ক্ষতিপূরণের প্রশ্নে রুল জারি করে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে স্টেট ইউনিভার্সিটি ও ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট

কার্বন শোষণে পরিবেশবান্ধব নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

উপকূল রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় টমটম চালক নিহত

ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলবে চীনের বুলেট ট্রেন

বিশ্ববাজারে বেড়েছে আর্জেন্টিনার গরুর মাংসের চাহিদা

দেশজুড়ে আরও পাঁচ দিন বৃষ্টির আভাস, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের শঙ্কা

শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হবে সৌদি আরব

সন্ধ্যার মধ্যে ৮ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

সীতাকুণ্ডে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

Jamal Bhuyan Joined OPPO as Shop Manager!