ঢাকাবুধবার , ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

হিমাগারে সংরক্ষিত আলুতে ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ৫, ২০২৫ ১২:৪৫ অপরাহ্ণ । ৮৯ জন

ভালো লাভের আশায় হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেছিলেন জয়পুরহাটের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বাজারে দর না থাকায় তারা বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বর্তমানে হিমাগারে থাকা আলু বিক্রি হচ্ছে মূল্যের অনেক কমে, প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর হতাশা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ছুঁইছে।

জেলা কৃষি বিপণন ও সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলায় ২১টি হিমাগারে ১৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৫০ বস্তা আলু সংরক্ষিত আছে। এর অর্ধেক বীজ আলু। হিমাগারে আলু সংরক্ষণের খরচ প্রতি কেজিতে ২৪-২৫ টাকা হলেও বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯-১০ টাকায়। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।

এ হিসাব অনুযায়ী, হিমাগারে থাকা আলু থেকে প্রায় ১১৭ কোটি টাকা, এবং ইতিমধ্যে হিমাগার থেকে বিক্রি হওয়া আলু থেকে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯৩ কোটি টাকায়।

কালাই উপজেলার আলু ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম আকন্দ জানান, ‘৪ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করেছিলাম। এতে আমার খরচ হয়েছিল ৫৬ লাখ টাকা। বিক্রি করে মাত্র ৫ লাখ টাকাই পেয়েছি। প্রায় ৫১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর চাহিদার তুলনায় আলুর উৎপাদন বেশি হয়েছে। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সংরক্ষণ করেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। সরকার ২২ টাকা কেজি দরে ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করলেও তা বাজারে কার্যকর হয়নি।’

হিমাগারে আলু সংরক্ষণের মেয়াদ আগামী ১৫ নভেম্বর শেষ হচ্ছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য এটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসুত্র: প্রথম আলো