হামের চিকিৎসা খরচ যোগাতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো। অনেক রোগীই চিকিৎসা শুরু করার আগেই অর্থ সংকটে চিকিৎসা প্রক্রিয়া থেকে সরে যাচ্ছে। পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে, শিশুর গুরুতর অবস্থার কথা বলে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রেফার্ড করা হলেও পরে দেখা যাচ্ছে তা সাধারণ হামের কেস। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ছেন অভিভাবকরা।
সোমবার (১৮ মে) ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মরিয়ম নামে ১১ মাস বয়সি এক শিশু ১৪ দিন নিউমোনিয়ায় ভর্তি থাকার পর হামের সংক্রমণে আবারও পাঁচ দিন ধরে ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যেই চিকিৎসা খরচে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তার দাদি ছকিনা বেগম।
তিনি জানান, নাতনির চিকিৎসার জন্য জীবনের শেষ সম্বলও ব্যয় করেছেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পরও ভাড়ার অভাবে শিশুটিকে বাড়ি নিতে পারছেন না তিনি।
হাসপাতালে ভর্তি অধিকাংশ রোগীর স্বজনদের একই ধরনের অভিজ্ঞতা। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো চরম সংকটে পড়ছে। পাশাপাশি এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রেফার্ড করার ঘটনাও বাড়ছে। স্বজনদের অভিযোগ, অনেক সময় গুরুতর বলা হলেও পরে দেখা যায় শিশুর অবস্থা স্বাভাবিক হামের মতো।
ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. আসিফ হায়দার বলেন, বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে জটিল অবস্থায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যেই মৃত্যুর হার বেশি দেখা যাচ্ছে।
তিনি শুরুতেই অপ্রয়োজনীয় রেফার্ড না করে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যারা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে তাদের দ্রুত আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হচ্ছে, আর যারা দ্রুত হাসপাতালে আসছে তারা তুলনামূলক দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।


