সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের বিখ্যাত ‘সাদা পাথর’ পর্যটনকেন্দ্র অবাধ পাথর উত্তোলনের ফলে ধীরে ধীরে এক বিরানভূমিতে পরিণত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে ধলাই নদীর তীরে জমে থাকা স্বচ্ছ সাদা পাথর তার নিজস্ব সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই দিনদুপুরে অবাধে পাথর ও বালু উত্তোলন চলছে। মাত্র দুই সপ্তাহে শত কোটি টাকার পাথর লুট হয়েছে। গত এক বছরে দুই থেকে তিন হাজার কোটি টাকা মূল্যমানের পাথর লুট হয়েছে—যা গত ১৫ বছরের চেয়েও বেশি।
প্রশাসনের অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রভাব
সিলেটের জেলা প্রশাসক স্বীকার করেছেন, ‘সাদা পাথরসহ সব কোয়ারিতে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ।’ নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও লুটপাট বন্ধ হচ্ছে না। পরিবেশবিদদের মতে, প্রশাসনের উদাসীনতা এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়া এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে লুটপাট চলছে। যদিও দলটি পরবর্তীতে কয়েকজন নেতার পদ স্থগিত করেছে।
প্রতিবাদ ও জনমত
প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় জনমতও জোরালো হচ্ছে। সাবেক ক্রিকেটার রুবেল হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “সাদা পাথর নেই তো, হারাবে সিলেটের সৌন্দর্যের গল্প। প্রকৃতি লুট নয়, প্রকৃতি রক্ষা করুন।” শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পর্যটন ও পরিবেশের ক্ষতি
২০১২-১৩ সাল থেকে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে খ্যাত ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর এর স্বচ্ছ নীল জল, সাদা পাথরের সমারোহ ও পাহাড়ের মেঘের দৃশ্যের জন্য পর্যটকদের মন জয় করেছিল। কিন্তু অবৈধ উত্তোলন, ভারী যানবাহনের চাপ ও পরিবেশ ধ্বংসের ফলে এর সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তদন্ত ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা
প্রশাসন ‘অভূতপূর্ব লুটপাট’ নিয়ে তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে। তবে পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সাদা পাথরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা স্থায়ীভাবে হারিয়ে যাবে।
ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর শুধু পাথর নয়—এটি ছিল সিলেটের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। এর ধ্বংস কেবল পরিবেশ নয়, স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও পর্যটন অর্থনীতিকেও হুমকির মুখে ফেলছে।


