রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে নিয়ে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় সায়েন্সল্যাব অবরোধ করেন তারা। এতে করে আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, জানুয়ারির প্রথম দিকেই অধ্যাদেশ জারি করা হবে। কিন্তু মাসের মাঝামাঝি সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা পুনরায় রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট বক্তব্য, চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না।
সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধের ফলে মিরপুর রোডসহ আশপাশের সব সংযোগ সড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে। অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার গাড়িগুলোও যানজটে নাকাল হচ্ছে।
সাভার পরিবহনের এক যাত্রী সাহিদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি ২০ কেজি দুধ নিয়ে সদরঘাট যাচ্ছিলাম। দীর্ঘক্ষণ জ্যামে আটকে থাকায় এই গরমে দুধ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সব ধরনের গাড়ি স্থবির হয়ে আছে, কোনো দিকে যাওয়ার পথ নেই।”
একই ভোগান্তির কথা জানান বাইক চালক আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, “৪০ মিনিট ধরে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। হাসপাতালে স্বজন ভর্তি, তাকে দেখতে যাওয়া জরুরি। কিন্তু আন্দোলনের কারণে সাধারণ মানুষকে এভাবে জিম্মি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, অধ্যাদেশ জারির প্রক্রিয়াটি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। গত মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, প্রশাসনিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, পরবর্তী ধাপে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি গ্রহণ এবং লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং শেষে এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপন করা হবে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সায়েন্সল্যাব মোড়ে শিক্ষার্থীদের স্লোগান ও অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যানজট নিরসনে পুলিশ বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দিলেও মূল সড়কগুলো বন্ধ থাকায় রাজধানীর একটি বড় অংশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।


