ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৬ জুলাই ২০২৬
  1. সর্বশেষ

সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন কক্সবাজার, চরম ভোগান্তিতে বাসিন্দা-পর্যটক

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২২ জুন ২০২৬, ১০:৩০ সকাল

Link Copied!

কক্সবাজার প্রতিনিধি: সামান্য বৃষ্টিতেই আবারও প্রকাশ পেয়েছে কক্সবাজার পৌর এলাকার দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার চিত্র। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই তলিয়ে গেছে পর্যটন শহরের প্রধান সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়। জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন, ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।

রোববার (২১ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি সন্ধ্যার দিকে আরও তীব্র হলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা দেয় কলাতলী, সুগন্ধা, হোটেল-মোটেল জোন, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এলাকা, বার্মিজ মার্কেট, বাজারঘাটা ও উপজেলা বাজার এলাকায়। অনেক স্থানে সড়ক ও ড্রেনের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে হোটেল-মোটেল জোনে অবস্থানরত পর্যটকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। প্রধান সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। অনেক পর্যটক হোটেলে আটকা পড়েন, আবার কেউ কেউ সমুদ্রসৈকত ঘুরতে গিয়ে জলাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তির শিকার হন।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সমির মল্লিক বলেন, “ঢাকায় জলাবদ্ধতা দেখেছি, কিন্তু দেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারেও একই অবস্থা দেখতে হবে ভাবিনি। হাঁটু পানি মাড়িয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে, যা পর্যটকদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দেয়।”

পর্যটক কবির আহমেদ বলেন, “মানসিক প্রশান্তির খোঁজে কক্সবাজারে এসেছি। কিন্তু কলাতলী ও বার্মিজ মার্কেট এলাকায় হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।”

শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকা, গোলদিঘি, বৌদ্ধ মন্দির সড়ক, বড় বাজার, টেকপাড়া, কালুর দোকান, তারাবনিয়ারছড়া, নুরপাড়া, সমিতিপাড়া, নাজিরারটেক, ফদনারডেইল, কুতুবদিয়া পাড়া এবং হোটেল-মোটেল জোনের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিজিবি ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা আবুল হাসান জানান, সন্ধ্যার ভারী বৃষ্টির পর পুরো এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। এতে যানবাহন চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে।

টেকপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল আজিজের অভিযোগ, পাহাড় কাটা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল-নালা দখল এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবের কারণে প্রতিবছর জলাবদ্ধতা বাড়ছে। অনেক নালার ওপর স্থাপনা নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল-নালা দখল এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে কক্সবাজারে জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবসতিপূর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে মো. শামীম আল ইমরান বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে। আশা করছি দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

অন্যদিকে মো. আবদুল হান্নান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে সন্ধ্যার পরও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের দাবি, পর্যটননির্ভর কক্সবাজার শহরের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, খাল-নালা দখলমুক্তকরণ এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমজুড়ে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

পাবনায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স-বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩

দেশজুড়ে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের আভাস

সেপ্টেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে আরও ৫ মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ

বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল দেখে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই সাংবাদিক

অমাবস্যার প্রভাবে বরিশাল বিভাগের ৮ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

দেশের ৮ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

যে ভিটামিনের অভাবে পেট ভরা থাকলেও বারবার ক্ষুধা লাগে

Donate for flood victims thru’ Nagad

নগদের মাধ্যমে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান, নেই কোনো চার্জ

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫৫ হাজার মানুষের পাশে যুক্তরাজ্য

বন্যায় ১০ জেলায় মানবিক বিপর্যয়, ক্ষতিগ্রস্ত ১১ লক্ষাধিক মানুষ

টিকাদানে আসছে ডিজিটাল ইন্টারঅপারেবল ডাটা প্ল্যাটফর্ম