ঢাকাসোমবার , ১৮ মে ২০২৬
  • অন্যান্য

শিশুদের উন্নয়নে বিনিয়োগই টেকসই অগ্রগতির ভিত্তি: বিশেষজ্ঞরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ১৮, ২০২৬ ১২:১৯ অপরাহ্ণ । ২৪ জন

শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ, শিক্ষা, পুষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগকে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, শিশুদের জন্য সময়োপযোগী ও কার্যকর বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে, যা অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক গতিশীলতা এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রোববার (১৭ মে) ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং অক্সফোর্ড পলিসি ম্যানেজমেন্ট-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিশু বিকাশ থেকে মানবসম্পদ: সামাজিক গতিশীলতার জন্য সামাজিক সুরক্ষার ব্যবহার’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব মতামত উঠে আসে।

কর্মশালায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, পর্যাপ্ত পুষ্টি, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবারের আয় বৃদ্ধির সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে শিশুরা ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠবে।

তারা আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে কেবল সহায়তা হিসেবে না দেখে মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।

কর্মশালায় গবেষকরা গবেষণা ও নীতিনির্ধারণের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। এ সময় ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সামাজিক গতিশীলতা নিয়ে তাদের গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে। অন্যদিকে অক্সফোর্ড পলিসি ম্যানেজমেন্ট শিশু বিকাশ ও দারিদ্র্য নিরসন নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মসূচির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে।

ড. জেনা হামাদানি বলেন, শিশুর জীবনের প্রথম দিকেই সঠিক বিনিয়োগ করা হলে ভবিষ্যতে শক্তিশালী মানবসম্পদ তৈরি হয়, যা দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে টেকসই করে। এই বিনিয়োগ দারিদ্র্যের চক্র ভাঙতেও সহায়তা করে।

অনলাইনে যুক্ত হয়ে অ্যান্ডি ম্যাকে সামাজিক গতিশীলতা ও মানবসম্পদ গঠনের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, আন্তঃপ্রজন্মীয় ও অন্তঃপ্রজন্মীয় গতিশীলতা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, দারিদ্র্য কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে পরিবার ও সমাজে প্রভাব ফেলে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, একসময় শিক্ষা সামাজিক সমতার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ছিল। তবে বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে এটি বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নের ওপর জোর দেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. দিপঙ্কর রায় প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এদিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বিভিন্ন খাতের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শিশুদের ওপর বিনিয়োগ করা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ড. আবদুর রাজ্জাক, ড. কাজী ইকবাল, অধ্যাপক এনামুল হক, ড. সেলিম রায়হান, ড. ফাহমিদা খাতুন এবং ড. মনজুর আহমেদসহ বিভিন্ন গবেষক ও নীতিনির্ধারক।

Facebook Comments Box

Jaxx Liberty Wallet

Jaxx Wallet Download