
রাজশাহীর কাঁচাবাজারে মাছ ও মুরগির দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও সবজির বাজারে স্বস্তির কোনো ছোঁয়া নেই। ক্রেতারা বলছেন, বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে সবজির দাম ৫০ টাকার নিচে নামছে না, যা তাদের নিত্যদিনের খরচে চাপ বাড়াচ্ছে।
শনিবার (১৭ মে) সাহেববাজার, সাগরপাড়া, তালাইমারিসহ নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। পেঁপে, পটোল, ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ও ঝিঙা বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়, করলা ও বেগুন ৭০-৮০ টাকায়, বরবটি ও কাঁকরোলের মতো গ্রীষ্মকালীন সবজি কিনতেও ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা।
অন্যদিকে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়, শসা ৬০-৭০ এবং গাজর ৪০-৫০ টাকায়। কাঁচামরিচের দাম বেড়ে ৫০-৬০ টাকা হয়েছে, যা রান্নার খরচে বাড়তি বোঝা ফেলছে। তুলনামূলকভাবে একমাত্র আলুর দাম কিছুটা কমেছে—প্রতি কেজি ১৮-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গরু-খাসির মাংসের দাম বাড়তির দিকে, মুরগিতে কিছুটা স্বস্তি
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গরু ও ছাগলের মাংসের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়, খাসির মাংস ১,২০০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১,১০০ টাকায়।
তবে মুরগির বাজার কিছুটা স্থিতিশীল। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে এক মাস আগেও ছিল ২০০ টাকার ওপরে। সোনালি মুরগির দাম এখন ২৫০-২৬০ টাকা, আর দেশি মুরগি ৬০০ টাকা কেজি। হাঁসের দামও জাতভেদে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
মাছের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন নেই
মাছের বাজারেও দেখা গেছে স্থিতিশীলতা। বাজারে প্রতি কেজি রুই বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৫০ টাকায়, কাতল ৩৪০-৪০০, চিংড়ি ৭০০-৮০০ এবং টেংরা ৬০০-৭০০ টাকায়। চাষের শিং ও মাগুর ৫০০ টাকা, কৈ ২০০-২৫০, পাঙাস ১৮০-২২০ এবং তেলাপিয়া ১৫০-২২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
দেশি মাছের দামের মধ্যে দেশি কৈ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১,০০০ টাকা, দেশি শিং ১,০০০-১,২০০ এবং আইড় ৭০০-৭৫০ টাকায়।
ক্রেতাদের ক্ষোভ, বিক্রেতাদের যুক্তি
বাজারে সবজি কিনতে আসা ইশরাফিল হোসেন বলেন, “গত ১০ দিন ধরে একই দাম। কিছুই কমছে না। একটা ঝিঙাও কিনতে গেলে ৫০ টাকা লেগেই যাচ্ছে।” অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, কৃষিপণ্য উৎপাদনে খরচ বেশি, তার ওপর গরম ও পরিবহন খরচ বেড়েছে—এগুলো সবজির দামে প্রভাব ফেলছে।