ঢাকাশুক্রবার , ২৯ আগস্ট ২০২৫
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজধানীসহ সারাদেশে সবজির বাজারে আগুন, চাপে সাধারণ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগস্ট ২৯, ২০২৫ ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ । ২৪৩ জন

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সবজির বাজারে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাজারে গেলে ক্রেতাদের মুখে শোনা যাচ্ছে একটাই অভিযোগ— সবজির দামে আগুন। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়তি, অন্যদিকে সবজি কেনার ক্ষেত্রে বাড়তি আর্থিক চাপ সাধারণ মানুষের জন্য হয়ে উঠেছে অসহনীয়।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শ্যামবাজার ও বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, যা এক মাস আগেও ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। পটল ৭০ টাকা, শিম ২০০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, লতি মুঠো ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে আলুর দামও বেড়ে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় উঠেছে, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ২০ টাকা। এছাড়া কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গৃহিণী রওশন আরা অভিযোগ করেন, “এক কেজি বেগুন কিনতেই এখন ৮০ টাকা লাগে। প্রতিদিনের রান্নার জন্য যা দরকার, তা কিনতেই বাজেটের অর্ধেক শেষ হয়ে যায়।” রিকশাচালক জাকির হোসেন বলেন, “আগে ২০০ টাকায় তিন–চার রকম সবজি আনা যেত। এখন এক–দুই রকম কিনতেই টাকা শেষ।”

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাদেরও বিক্রয়মূল্য বাড়াতে হচ্ছে। ব্যবসায়ী জালাল হোসেন জানান, “জেলাগুলো থেকে সবজি কম আসছে। আবার ট্রান্সপোর্ট খরচও বেড়ে গেছে। লোকসান দিয়ে তো আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারব না।”

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ না থাকা—সব মিলিয়ে সবজির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কৃষকদের সরাসরি বাজারে বিক্রির সুযোগ দেওয়া, কোল্ড স্টোরেজ বাড়ানো, পরিবহন খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে এ অবস্থা আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ সবজি। কিন্তু লাগামহীন দাম ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। অনেক পরিবার এখন খাবারের তালিকা থেকে একাধিক সবজি বাদ দিচ্ছে। সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে বাজারের এই অস্থিরতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।