ঢাকাশুক্রবার , ২৯ আগস্ট ২০২৫
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজধানীতে মাছের বাজারে দামের আগুন, ভোক্তাদের হতাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগস্ট ২৯, ২০২৫ ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ । ২০২ জন

রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে গিয়ে চোখে পড়ল মাছের সারি, ভোরের কোলাহল আর হাঁকডাক। কিন্তু টাটকা মাছের সেই সারি এখন আর ক্রেতাদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে না; বরং বাড়িয়ে দিচ্ছে দুশ্চিন্তা। চাষের মাছ থেকে শুরু করে নদী ও সমুদ্রের মাছ—সবকিছুর দামই এখন আকাশছোঁয়া।

শুক্রবার সকালে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুই কেজির ওপরে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৪৭০ টাকায়। এক কেজি ওজনের রুইয়ের দামও ৩০০ টাকার বেশি। সিলভার কার্প কেজিপ্রতি ২৩০ থেকে ৩৫০ টাকা, শোল মাছ ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশও ২০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।

কারওয়ান বাজারে মাছ কিনতে আসা এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রুই-কাতলা এখন গরুর মাংসের মতো দামি হয়ে গেছে। আগে সপ্তাহে চার দিন মাছ কিনতাম, এখন দু’দিন কিনতেই কষ্ট হয়। ব্যবসায়ীরা নিজের মতো করে দাম বাড়াচ্ছে, অথচ কেউ নজর দিচ্ছে না।”

এদিকে ইলিশের বাজারেও দামের আগুন জ্বলছে। এক থেকে সোয়া কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় আড়াই হাজার টাকায়। মাঝারি আকারের (৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম) এক কেজি ইলিশ ১,৭০০ থেকে ২,০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর ছোট ইলিশ (৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম) এক কেজি বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার টাকার ওপরে।

ক্রেতারা বলছেন, ইলিশ এখন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এক ক্রেতার মন্তব্য— “অনেক দিন ইলিশ খাওয়া হয় না। ভেবেছিলাম মৌসুমে দামে কিছুটা স্বস্তি আসবে, কিন্তু আগের মতোই আগুন।”

বিক্রেতারা অবশ্য বলছেন, মাছ কিনতেই বেশি দাম পড়ছে। পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য খরচ বাড়ায় তারাও বাধ্য হচ্ছেন উঁচু দামে বিক্রি করতে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কার্যকর মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি পরিবহন খরচ নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ বাড়ানো এবং বাজার তদারকি জোরদার না করা হয়, তবে মাছের বাজারে এ অস্থিরতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।