পবিত্র রমজানের শুরুতে সবজির বাজারে চড়া দামের কারণে ক্রেতাদের ভোগান্তি দেখা দিলেও দুই সপ্তাহ পার হতে না হতেই বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। রোজার মাঝামাঝি সময়ে এসে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। এতে স্বস্তি প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানের শুরুতে যেসব সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছিল, সেগুলোর দাম এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সরবরাহ বাড়ার কারণে বেশির ভাগ সবজি এখন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে এসেছে।
বর্তমানে বাজারে বেগুন প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ক্ষিরা ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
রোজার আগে যে লেবু হালিপ্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বড় আকারের লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, যা আগে ১৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
শসা ও বেগুনের দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। বর্তমানে শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় এবং বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। বাজারে ক্রেতা তুলনামূলক কম থাকায় ব্যবসায়ীরা বলছেন, আপাতত দাম স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে লাউ প্রতিটি ৪০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালকুমড়া আকারভেদে ৬০ থেকে ৯০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং কচু ৪০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং আলু কেজি প্রতি প্রায় ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের মতে, রমজানের শুরুতে বাজারে সবজির দাম অনেক বেশি ছিল, এতে প্রতিদিনের রান্নার খরচ বেড়ে গিয়েছিল। তবে এখন দাম কিছুটা কমে আসায় বাজার করতে স্বস্তি মিলছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা রাহিম মুন্সি বলেন, রোজার শুরুতে প্রায় সব সবজিই ৮০ থেকে ১০০ টাকার কাছাকাছি ছিল। তখন বাজার করতে এসে অনেকটাই বিপাকে পড়তে হয়েছিল। এখন বেশির ভাগ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, এতে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।
বিক্রেতারাও বলছেন, বাজারে এখন সবজির সরবরাহ বেড়েছে। ফলে দাম কিছুটা কমে এসেছে। এক সবজি বিক্রেতা জানান, রোজার শুরুতে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি ছিল। এখন বিভিন্ন জেলা থেকে বেশি সবজি আসছে, তাই দাম কমেছে।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আগামী দিনগুলোতে সবজির দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। তবে কৃষিপণ্য হওয়ায় সবজির দাম সরবরাহ ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে ওঠানামা করতে পারে বলেও তারা জানান।


