ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থির। কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব ও কাতারসহ একাধিক দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
কুয়েত-এর সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বাহরাইন-এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বাজিয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরব-এর বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ রাজধানী রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে আগাম সতর্কতা জারি করেছে। সম্ভাব্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
কাতার সরকার জানিয়েছে, বর্তমান নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা ‘অত্যন্ত উচ্চ’। জনসাধারণকে অপ্রয়োজনে বাইরে না গিয়ে ঘরের ভেতরে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, মাঠপর্যায়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান এবং ইসরায়েল বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ধোঁয়াশা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর একযোগে সতর্কতা জারি করা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা সম্ভাব্য প্রক্সি হামলা কিংবা প্রযুক্তিগত ত্রুটিজনিত ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের আশঙ্কা করছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও সেই প্রক্রিয়া শুরুর আগেই নতুন এই সতর্কতা বিশ্ববাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


