
মানুষের মনের মধ্যে পৃথিবীর মানচিত্রের ধারণা প্রায়শই বাস্তবতার সঙ্গে মিলে না। বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মানচিত্রবিদ লিসেলট ল্যাপন পরিচালিত এক অনলাইন গেম-ভিত্তিক গবেষণায় এই সত্য উদঘাটিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ লক্ষ মানুষ অংশগ্রহণ করেছে, যেখানে তাদেরকে বিভিন্ন ভূখণ্ডের ক্ষেত্রফল বিচার করতে বলা হয়েছিল।
গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে যে, মানুষের অনুমান প্রায়ই শ্রেণীকক্ষের প্রাচীরের মানচিত্রের চেয়ে বাস্তবের কাছাকাছি। তবে এটি স্থান অনুযায়ী কিছুটা বিকৃত হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপ প্রায়শই বড় মনে করা হয়, আর আফ্রিকা ও এশিয়া সাধারণত তাদের প্রকৃত আকারের কাছাকাছি থাকে।
গবেষণায় স্বেচ্ছাসেবকরা দুটি অঞ্চলের আকার সমন্বয় করতে গিয়ে সবচেয়ে সঠিক মনে হওয়া আনুপাতিক আকার নির্বাচন করেছেন। অংশগ্রহণকারীদের শিক্ষাগত পটভূমি, বয়স এবং মানচিত্রের দৈনন্দিন ব্যবহার সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রতিটি সমতল মানচিত্রে একটি প্রক্ষেপণ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, যা পৃথিবীর বাঁকা পৃষ্ঠকে সমতল আকারে রূপান্তরিত করে। যেমন:মার্কেটর, গল-পিটার্স, মলওয়েইড, রবিনসন প্রক্ষেপণ। প্রতিটি প্রক্ষেপণ কিছু না কিছু বিকৃতি সৃষ্টি করে-ক্ষেত্রফল, দূরত্ব বা আকারের ক্ষেত্রে।
গবেষকরা দেখেছেন, অংশগ্রহণকারীরা পরিচিত মানচিত্রের প্রক্ষেপণে বেশি নির্ভুল অনুমান করেছেন। বিশেষ করে যেসব দেশে Robinson প্রক্ষেপণ ব্যবহার করা হয়, সেখানে মানুষের ক্ষেত্রফল বিচার আরও সঠিক হয়েছে।
মানচিত্রের প্রক্ষেপণ কেবল আকার দেখানোর পদ্ধতি নয়; এটি মানুষের জ্ঞান ও অনুমানের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। যারা বেশি পরিচিত প্রাচীন বা মার্কেটর প্রক্ষেপণ ব্যবহার করে, তারা ক্ষেত্রফল নির্ধারণে তুলনামূলকভাবে বড় ভুল করে।
ল্যাপন উল্লেখ করেছেন, “মানুষের জ্ঞান মানচিত্র প্রক্ষেপণ দ্বারা প্রভাবিত হয়। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ এই বিকৃত ধারণা সংশোধন করতে পারে।”
গবেষণার অন্যতম শিক্ষা হল-শিক্ষার্থীদের মানচিত্রের প্রক্ষেপণ পড়া এবং বিশ্লেষণ শিখানো অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি প্রক্ষেপণ কী সংরক্ষণ করে, কী বিকৃত করে এবং কোন ধরনের তথ্য ফুটিয়ে তোলে তা বোঝা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব মানচিত্র সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ালে মানুষ ভূগোলের বিষয়ে আরও বাস্তবসম্মত ও সঠিক মানসিক চিত্র তৈরি করতে পারবে। এটি শুধু শিক্ষার জন্য নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গে পৃথিবীকে সঠিকভাবে বোঝার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।