ঢাকাশুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাছ-মাংসের চড়া দামে হিমশিম, সাশ্রয়ী পণ্যে ঝুঁকছে ক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ৬, ২০২৬ ৩:৪২ অপরাহ্ণ । ১৬৭ জন

রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি চাপের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। মাছ ও মাংসের অধিকাংশ পণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখন তুলনামূলক কম দামের পাঙ্গাস, তেলাপিয়া মাছ এবং পোল্ট্রি বা ব্রয়লার মুরগির ওপর নির্ভর করছে। ফলে এসব পণ্যের চাহিদাও বাজারে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে পাঙ্গাস মাছ কেজি প্রতি ১৮০ থেকে ২৫০ টাকায় এবং তেলাপিয়া মাছ ১৭০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দাম হওয়ায় এসব মাছ কিনতে সাধারণ ক্রেতাদের ভিড়ও বেশি দেখা যাচ্ছে।

পোল্ট্রি মুরগির বাজারেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে পোল্ট্রি মুরগি কেজি প্রতি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক পরিবার সপ্তাহে একাধিকবার মাংস খাওয়ার জন্য পোল্ট্রি মুরগিকেই বেছে নিচ্ছে।

ডিমের দাম কিছুটা সহনীয় থাকলেও সেটিও অনেক পরিবারের জন্য হিসাব করে কেনার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে প্রতি ডজন ডিম ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেহরি ও ইফতারে সহজে রান্না করা যায় বলে রমজানে ডিমের চাহিদাও বেশ বেড়েছে।

তবে বাজারে অন্যান্য মাছের দাম এখনো বেশ চড়া। বর্তমানে রুই মাছ কেজি প্রতি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৮০ থেকে ৪৮০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা, শিং মাছ ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং পাবদা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বোয়াল মাছের দাম কেজি প্রতি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এসব মাছের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতাকেই কেনাকাটা থেকে সরে যেতে দেখা যাচ্ছে।

মাংসের বাজারেও দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। বর্তমানে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় এবং খাসির মাংস ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নিয়মিত গরু বা খাসির মাংস কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ক্রেতাদের মতে, রমজানে সাধারণত পরিবারের খাবারের খরচ কিছুটা বেড়ে যায়। কিন্তু বাজারে মাছ ও মাংসের দাম বেশি থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে সাশ্রয়ী পণ্যের দিকেই ঝুঁকছেন।

রাজধানীর একটি বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, আগে মাঝে মাঝে বড় মাছ বা গরুর মাংস কেনা হতো। এখন সেটা অনেক কমে গেছে। পাঙ্গাস, তেলাপিয়া আর পোল্ট্রি মুরগিই বেশি কিনতে হচ্ছে। এগুলোই এখন তাদের ভরসা।

বিক্রেতাদের মতে, কম দামের মাছ ও পোল্ট্রি মুরগির বিক্রি এখন তুলনামূলক বেশি। এক মাছ বিক্রেতা জানান, পাঙ্গাস ও তেলাপিয়ার বিক্রি এখন বেশি, কারণ দাম কম হওয়ায় সাধারণ মানুষ এগুলোই বেশি নিচ্ছেন। বড় মাছের দিকে অনেকেই তাকিয়ে থাকছেন, কিন্তু কিনতে পারছেন না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির প্রভাবেই মাছ ও মাংসের দাম বেশি রয়েছে। দাম স্থিতিশীল না হলে রমজানের বাকি সময়েও সাধারণ মানুষের বাজারের চাপ কমবে না।

সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের এই সময়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই সাশ্রয়ী খাবারের ওপর নির্ভর করেই রমজানের সংসার চালাচ্ছেন। পাঙ্গাস, তেলাপিয়া ও পোল্ট্রি মুরগিই এখন তাদের খাবারের তালিকায় প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।