
খুলনা শহরের প্রধান প্রবেশদ্বার গল্লামারী পয়েন্টে ময়ূর নদের ওপর নির্মাণাধীন দুটি সমান্তরাল স্টিল নেটওয়ার্ক আর্চ সেতুর কাজ আবারও গতি পেয়েছে। দুটি সেতুর মধ্যে একটি ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রথম সেতুটির নির্মাণকাজ আগামী সেপ্টেম্বরে শেষ করে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে দ্বিতীয় সেতুটির কাজ শেষ হতে আরও প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।
সড়ক ও জনপথ (আরএইচডি) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নান্দনিক নকশার এ দুটি সেতুর নির্মাণকাজ ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হয়। প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ২৮ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরও এক বছর সময় বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেছে।
প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রথম সেতুর স্টিল কাঠামো স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। মূল আর্চ ইতোমধ্যে সংযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ডেক স্ল্যাব ঢালাই ও হ্যাঙ্গার স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় ৬৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ আগস্টের মধ্যে সম্পন্ন করে সেপ্টেম্বরে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে দ্বিতীয় সেতুর কাজ শুরু হয়ে শেষ হতে আরও প্রায় এক বছর লাগতে পারে। বর্তমানে পুরো প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৪০ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় প্রকল্পটির কাজ ধীরগতিতে চলেছে। এতে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন কাজ স্থবির থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান এবং সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।
গত জুনের মাঝামাঝি খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিলে নির্মাণকাজে গতি ফিরে আসে।
কাজের বিলম্ব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, নির্মাণকাজের কারণে গল্লামারী এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার যানবাহন ও পথচারী প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হক জানান, ৬৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি স্টিল নেটওয়ার্ক আর্চ সেতু এবং ৭৫০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথম সেতুর কাজ শেষ হওয়ার পরপরই দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রকল্পে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দেশে এ ধরনের স্টিল নেটওয়ার্ক আর্চ সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও অন্যান্য পক্ষের পূর্ব-অভিজ্ঞতা ছিল না। পাশাপাশি আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণেও কাজের গতি কমে যায়। তবে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সেতুর হ্যাঙ্গার স্থাপনের জন্য শিগগিরই চীনা বিশেষজ্ঞদের একটি দল বাংলাদেশে আসবে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও এর ব্যয় বাড়বে না। ঠিকাদারকে চুক্তিবদ্ধ অর্থের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, নির্মাণকাজ শেষ হলে গল্লামারী এলাকায় দীর্ঘদিনের যানজট ও ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি আধুনিক নকশার এই যুগল স্টিল নেটওয়ার্ক আর্চ সেতু খুলনা নগরের অন্যতম দর্শনীয় স্থাপনা ও নতুন ল্যান্ডমার্ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
সুত্র: বাসস