ঢাকাবুধবার , ৭ অক্টোবর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

মধুমতীর ভাঙনে বিলীন শতবর্ষী সাচিয়া বাজার, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৫ সকাল

Link Copied!

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী সাচিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। মধুমতী নদীর তীব্র স্রোতে ইতোমধ্যে কয়েকটি দোকান ও বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চলা ভাঙন নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে গত ১০ আগস্ট। এতে অন্তত সাতটি দোকান ও বসতঘর নদীতে তলিয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তীব্র স্রোতে প্রতিনিয়ত ভেঙে পড়ছে নদীতীরের স্থাপনা। ইতোমধ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটিও নদীগর্ভে চলে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে শত বছরের পুরোনো সাচিয়া বাজারের মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। যেকোনো সময় এসব স্থাপনাও নদীতে বিলীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নদীভাঙনে একের পর এক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতভিটা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। অনেক পরিবার সহায়-সম্বল ও ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন ভাড়া বাসায়। এতে নদীকূলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

৭০ বছর বয়সী বিজলী বিশ্বাস জীবনের শেষ বয়সে এসে সরকারের কাছে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই চেয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার উদ্যোগ নিলে বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব।

প্রায় ৮০ বছর বয়সী রূপা রানী দাস ছোটবেলায় বিয়ের পর সাচিয়া বাজারে স্বামীর সংসারে এসেছিলেন। দীর্ঘদিনের নদীভাঙনে তিনি হারিয়েছেন স্বামীর সমাধির শেষ চিহ্নটুকুও। হারিয়েছেন সাতটি ভিটা। বর্তমানে অন্যের ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন তিনি। নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় পুরোনো ক্ষত যেন আবারও জেগে উঠেছে। উদ্বেগ আর আতঙ্কে দিন কাটছে তার।

একসময় সাচিয়া বাজারের বড় ব্যবসায়ী ছিলেন কৃপা বিশ্বাস। মধুমতীর ভাঙনে আজ তিনি নিঃস্ব। তিনি বলেন, শত বছরের পুরোনো এই হাটটি টিকে থাকলে শত শত মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। তাই দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

মধুমতীর পাড়ের মানুষের এমন নিঃস্ব হওয়ার গল্পের শেষ নেই। কারও দোকান গেছে, কারও বসতভিটা, আবার কেউ হারিয়েছেন বংশপরম্পরায় ধরে রাখা শেষ স্মৃতিটুকুও। তাই স্থানীয়দের দাবি, শুধু অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলে এই ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়। সাচিয়া বাজার, ধর্মীয় উপাসনালয় ও বসতভিটা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাশেদ খান জানান, ভাঙনের খবর পাওয়ার পর সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের ভিত্তিতে জরুরি পর্যায়ে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তবে ব্লক বা বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের প্রক্রিয়া দীর্ঘ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

দখলমুক্ত মিরপুর-১০, ফুটপাতে ফিরেছে স্বস্তি

গ্যাসকে পেছনে ফেলে এশিয়ার জ্বালানি মানচিত্রে শীর্ষে এখন সৌরবিদ্যুৎ

সড়ক দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসায় ভূমিকা রাখছে স্বেচ্ছাসেবকরা

ল্যাবরেটরির নিঃসঙ্গ রাত থেকে বিজ্ঞানী কার্ল ডেইসারথের নোবেলের জয়

দেশে শব্দদূষণ কমাতে ১ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণ

রাজশাহীতে ৪৮৯ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, বরাদ্দ ২৮৯ টন চাল

মৎস্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অপচয় বন্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান

২২ জেলায় গড়ে উঠছে ‘শিশু স্বর্গ’: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য-পরিচ্ছন্নতায় ইউনিলিভার-ফ্রেন্ডশিপের নতুন উদ্যোগ

শিশুদের শৈশব নিরাপদ ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার আহ্বান ডা. জুবাইদার

সৈকতে ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি দেখতে টুভালুতে বিশ্বনেতারা